কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় জেলা ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে অফিসের আসবাব, সব ধরনের নথিপত্র, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ পুড়ে গেছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে ওই অফিসে। সকাল ৭টায় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার বিষয়টি প্রথম দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। এ সময় অফিসের ভেতরে চার জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ঘুমিয়েছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তারা অফিস থেকে দৌড়ে বের হন। তাই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে অফিসের বেশির ভাগ নথিপত্র পুড়ে গেছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। সকাল ৭টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।
নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমে মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করতে কিছুদিনের জন্য অসুবিধা হবে।
কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর সৈয়দ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আগুনে কার্যালয়ের সব আসবাব, নথিপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ পুড়ে গেছে। কোনও কিছুই আর ব্যবহার করার মতো অবস্থায় নেই। ফলে আমাদের মামলা-মোকদ্দমা ও প্রাত্যহিক কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে গেছে।’
সকালে আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী। তা ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মাসুদ সরদার ঘটনাস্থল ঘুরে গেছেন।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে প্রথমেই আমাদের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বাড়লে করিমগঞ্জ থেকে আরও দুটি ইউনিট আনা হয়। পাঁচটি ইউনিট দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি দল কাজ করছে।’ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতেও সময় লাগবে বলে জানান তিনি।









