ব্যবসা সূত্রে পরিচয়। তারপর টাকা লেনদেন। এক পর্যায়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী নিজাম শেখকে (৬০) ডেকে নিয়ে অপহরণচক্রের সদস্যদের হাতে তুলে দেয় কাপড় ব্যবসায়ী শিউলী (৪০)। পরে তার পরিবারের কাছে ফোন করে আরো ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ওই চক্রের সদস্যরা। এ ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে শ্রীপুর থানায় জানালে পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধারসহ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল চান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা এলাকার জনৈক দবীরের কলাবাগান থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার ও দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় এবং কাপড় ব্যবসায়ী ভিকটিম নিজাম শেখকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়।
ভিকটিম কাপড় ব্যবসায়ী নিজাম শেখ কুষ্টিয়া সদর থানার হাটশ হরিপুর গ্রামের মৃত সিরজান শেখের ছেলে। তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে কাপড়ের ব্যবসা ও বিক্রি করেন।
অপহরণ চক্রের সদস্যরা হলো– ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হরিবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া গ্রামের কামালের স্ত্রী শিউলী (৪০), আমান উল্লাহর ছেলে কামাল (৪২), শ্রীপুর পৌরসভার বকুলতলা এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে শাহাদৎ হোসেন (৩৯), মাধখলা এলাকার আমির হোসেনের ছেলে সুমন (২৬), মৃত বারো মিয়ার ছেলে মিলন (২৮), মৃত ফজলুর ছেলে আলমগীর হোসেন (২৯), মৃত নরুল ইসলামের ছেলে আমির হোসেন (৫৫)। তাদের মধ্যে শাহাদৎ এবং আমিরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল চান বলেন, ‘কাপড় ব্যবসায়ী নিজাম শেখ কক্সবাজারে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন। ব্যবসা করার সুবাদে আরেক কাপড় ব্যবসায়ী শিউলীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে শিউলী ভিকটিমের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ধার নেয়। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় পার হলে ফোনে টাকা চাইলে ব্যবসায়ী নিজামকে কক্সবাজার থেকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা আসতে বলে শিউলী। পরে সোমবার কক্সবাজার থেকে রাত ১১টার দিকে রওনা দিয়ে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ার মার্কেটের সামনে আসেন নিজাম। শিউলীকে ফোন দিলে সে দেখা না করে কৌশলে কাপড় ব্যবসায়ী নিজাম শেখকে অপহরণ চক্রের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়।
তারা ভিকটিমকে নিয়ে কখনও শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা, বৈরাগীরচালা এবং মাধখলা এলাকায় আটকে রেখে মারধর করে। ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ভিকটিমের ছেলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের ২০ হাজার টাকা পাঠায়। মঙ্গলবার ভিকটিমের ছেলে মিজানুর রহমান রিপন কুষ্টিয়া থেকে শ্রীপুর থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছে তার বাবাকে অপহরণের বিষয়টি জানায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ তাৎক্ষণিক ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান শুরু করেন। ওই দলের প্রধান এসআই লাল চান তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণ চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করলেও তারা বার বার ভিকটিমকে নিয়ে স্থান পরিবর্তন করে। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরণ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেন।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা এলাকার শাল-গজারি বনের ভেতর জনৈক দবীরের কলাবাগানে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়। তাদের গ্রেফতারের জন্য দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এসআই লাল চান ইউনিফর্মের ওপর অন্য পোশাক পরে কলাবাগানের দিকে এগিয়ে যান। তিনি নিকট দূরত্ব থাকা অবস্থায় চক্রের দুই সদস্য ভিকটিমকে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে অভিযানের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ে চক্রের সদস্য শাহাদৎ হোসেন ও আমির হোসেনকে গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনার ভিকটিমের ছেলে মিজানুর রহমান রিপন বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রখেছে।









