কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় রেলক্রসিংয়ে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতদের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি ঝিনাইদহে। তাদের মধ্যে তিন জন একই পরিবারের সদস্য। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার পাঁচজনের মৃত্যুতে গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হন।
ঝিনাইদহের নিহত পাঁচ জন হলেন– মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭), তার দুই শিশুসন্তান খাদিজা (৫) ও মরিয়ম (৩), ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের অনামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেন।
তারা ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষ করে রবিবার ভোরবেলা ঝিনাইদহ থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে নোয়াখালীতে আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
মহেশপুরের পাতিবিলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তার ভাই পিন্টু ছিল মামুন পরিবহনের ড্রাইভার। তার শ্বশুরবাড়ি নোয়াখালী জেলায়। ওই গাড়িতেই তার ভাইয়ের পরিবার নোয়াখালী যাচ্ছিল। ঢাকায় পিন্টু বদলি ড্রাইভার হিসেবে নেমে পড়েন। গাড়িতে তার স্ত্রী লাইজু ও দুই শিশু কন্যা ছিলেন। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন। তাদের মৃত্যুর খবরে গোটা এলাকার মানুষ শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার জানান, তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই মৃত্যুর খবর শুনেছেন। লাশ বাড়িতে আসলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলার পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়ে বলেন, নিহতদের লাশ বাড়ি পৌঁছাতে সার্বিক সহায়তা করা হবে।









