বাগেরহাটের চিতলমারীতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিজলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ মহলী (৪৬) ও গণিতের শিক্ষক অশোক কুমার ঘোষালকে (৫৫) ৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে চিতলমারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার পারভেজ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এই দণ্ডাদেশ দেন।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. রবিউল ইসলাম জানান, রবিবার দুপুরে হিজলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক অশোক কুমার ঘোষাল ১০ম শ্রেণিতে বিজ্ঞান ক্লাস চলাকালীন হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কটূক্তি করেন। এ ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার জের হিসেবে সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ মহলীকে জানালে তিনি ওই গণিতের শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে আবারও কটূক্তি করেন। এতে বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই প্রধান শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে স্কুল লাইব্রেরিতে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ ওই দুই শিক্ষককে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে নিয়ে আসেন। তাদের পেছনে-পেছনে শত-শত এলাকাবাসী মিছিল করে এঘটনার বিচার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে।
দুপুরে চিতলমারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পারভেজ হিজলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষার্থীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দুই শিক্ষকের স্বীকারোক্তির পর প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ মহলী ও গণিতের শিক্ষক অশোক কুমার ঘোষালকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। বিকালে দণ্ডিত দুই শিক্ষককে কড়া পুলিশ প্রহরায় বাগেরহাট কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, শিক্ষার্থীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দুই শিক্ষকের স্বীকারোক্তির পর দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৯৮ ধারা অনুযায়ী তাদেরকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
/টিএন/






