সুগন্ধা নদীর আকস্মিক ভাঙনের মুখে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সৈয়দ মোশারেফ-রাশিদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সোমবার (২৭ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুল ভবনের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে স্কুলটি ভেঙে যাওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়ছেন সৈয়দ মোশারফ-রাশিদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা।
তবে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিক বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা এবং ৫ বান টিন দেয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক শিক্ষক এনায়েত করীম ফারুক জানান, সুগন্ধা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে দোয়ারিকা সেতুসহ এলাকাটি। কিন্তু নামমাত্র উদ্যোগের ফলে এর স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। তাই শিগগিরই কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পুরো দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আর সেতুসহ অন্যান্য স্থাপনা রক্ষার জন্য ২৩০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণসহ একটি প্রস্তাবনা সড়ক ও জনপদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ’
বরিশালের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নদীভাঙন থেকে সেতুটি রক্ষার্থে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত হাওলাদার বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে এ ভাঙনে স্কুল ভবনের অদূরে থাকা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু (দোয়ারিকা সেতু), বরিশাল বিমানবন্দর, মহিষাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এই হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানকে জানানো হয়েছে।’







