বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ওয়াপদা কমপ্লেক্স সংলগ্ন বধ্যভূমি এলাকায় যেকোনও ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ এবং নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচি থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা না হলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিই তা উচ্ছেদ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বরিশাল জেলা ও মহানগর কমান্ডের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কুতুবউদ্দিন আহমদ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একাত্তর সালে পাক হানাদার বাহিনী বরিশাল ওয়াপদা কমপ্লেক্সে মিনি ক্যান্টনমেন্ট গড়ে তুলেছিল। সেখানকার বন্দীশালায় ধরে নিয়ে যাওয়া মানুষদের নির্যাতন শেষে কমপ্লেক্স সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর তীরে নিয়ে হত্যা করা হতো। বক্তারা এ বধ্যভূমি এলাকার ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় যেকোনও ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও গড়ে তোলা বাণিজ্যিক স্থাপনা দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণের দাবি জানান।
এসময় দাবি মানা না হলে ১১ সেপ্টেম্বর দেয়া ৪৮-ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিই তা উচ্ছেদ করবে বলে হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
সমাবেশে বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণের দাবিতে বক্তব্য রাখেন- মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোখলেসুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন চৌধুরী, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কাজল ঘোষ, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি সৈয়দ দুলাল, উন্নয়ন সংগঠনকর্মী শুভংকর চক্রবর্তী প্রমুখ।
বিক্ষোভ-সমাবেশ শেষে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি প্রতিনিধি দল। এসময় জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান প্রতিনিধি দলকে জানান, উল্লেখিত জায়গাটি সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত স্থান। তিনি সেখানে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
এ সময় বাণিজ্যিক স্থাপনার উদ্যোক্তা আকতার ফারুক শাহীন টেলিফোনে জেলা প্রশাসককে জানান তিনি নিজ উদ্যোগেই শুক্রবার তার নির্মাণাধীন স্থাপনা সরিয়ে নেবেন।
এর আগে নির্মাণাধীন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা আকতার ফারুক শাহীন দাবি করেছিলেন, তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)-এর কাছ হতে বৈধভাবে জমিটি লিজ নিয়েছেন। এখন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময়ে আপত্তি দেয়া হচ্ছে।
তবে সিটি করপোরেশন থেকে ওই জায়গাটি লিজ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিসিসির স্টেট অফিসার মো. শাকিল। তিনি বলেন, এটা সিটি করপোরেশনের জায়গা না। এমনকি লিজ প্রদানের বিষয়টিও বিসিসির কোনও সভায় উত্থাপিত হয়নি। কোনও আইন কানুনের তোয়াক্কা না করেই উল্লেখিত স্থানে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুনতাসির মামুন শনিবার বরিশালে অবস্থানকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।







