মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরগুনার ৩০৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হচ্ছে ‘নন্দিনী হাইজিন কর্নার’। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনা জেলা প্রশাসন ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পিরিয়ডকালীন ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলাসহ বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন করা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে জেলার ৩০৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নন্দিনী হাইজিন কর্নার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যালয়ে কর্নার করা হয়েছে।সেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ফার্স্ট এইড, আয়রন বড়ি রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি ঢাকনাওয়ালা ঝুড়িও রয়েছে। এ কর্নার স্থাপনের ব্যয় বহন করবে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউনিসেফের সহায়তায় প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে একজন ছাত্রী (নন্দিনী গার্ল), একজন ছাত্র (নোবেল বয়), একজন শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকসহ ১২২০ জনকে বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষিতরা বিদ্যালয়ের বাকি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
এছাড়াও কর্মসূচি অংশ হিসেবে ৩৮০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বরগুনা জেলা প্রশাসন সার্ভে অন পার্সোনাল মিনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক একটি জরিপ করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, পিরিয়ডের সময় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮১ শতাংশ ও দাখিল মাদ্রাসার ৮৩ শতাংশ ছাত্রী পুরোনো কাপড় ব্যবহার করে। এই সময়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮৪ শতাংশ ও মাদ্রাসার ৮৬ শতাংশ ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকে।
কর্মসূচির সমন্বয়ক বরগুনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোয় মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো নন্দিনী হাইজিন কর্নার স্থাপন করা হচ্ছে। এর আগে শিক্ষার্থীরা এমনকি শিক্ষকরাও শ্রেণিকক্ষে পিরিয়ড ও বয়ঃসন্ধিকালীন বিষয় নিয়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করতেন। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে এখন খোলামেলা কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’
নন্দিনী হাইজিন কর্নার স্থাপন করা হয়েছে বরগুনার আমতলী একে হাইস্কুলে। ওই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা আগে পিরিয়ডের সময় স্কুলে যেতে ভয় পেতো। এ নিয়ে পরিবারের মানুষের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে পারতো না। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন পিরিয়ডের সময়ে করণীয় সম্পর্কে জানতে পেরেছে। নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরকেও সচেতন করতে পারছে।
একে হাইস্কুলের শিক্ষক কানিজ ফাতেমা বেগম বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি পিরিয়ডের সময় মেয়েরো স্কুলের আসতে ভয় পেতো। নন্দিনী হাইজিন কর্নার স্থাপন করার পর আমার মনে হয় মেয়েরা স্কুলের আসতে বেশি উৎসাহী হবে।’
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে হাইজিন কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির সুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা অর্জন, শান্তি-ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নন্দিনী হাইজিন কর্মসূচি সহায়তা করবে।








