শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারসহ ৩ দফা দাবি আদায়ে ফের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় মহাসড়কের কর্নকাঠী এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গাছের গুড়ি ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।
তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। এদিকে অবরোধের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। যদিও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ প্রত্যাহারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরীর রূপাতলী হাউজিংয়ের মেসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যায়ের অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে দুর্বৃত্তরা। শিক্ষার্থীদের দাবি ওই রাতে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তাদের ওপর নির্যাতন করেছে। এ ঘটনায় ওই রাত দেড়টা থেকে পরদিন বুধবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার ও হামলকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তাদের নিরাপত্তা প্রদানের শর্তে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বুধবার বিকালে অবরোধ সাময়িক স্থগিত করেন।
হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ওই হামলায় চিহ্নিতদের আসামি না করা এবং প্রকৃত হামলকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ফের মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ২ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অবরোধ স্থগিত করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মামলায় শুক্রকার রাতে সন্দেহভাজন দুই জন শ্রমিককে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তারা ওই হামলায় জড়িত নয় বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
প্রকৃত হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ তিন দফা দাবিতে ফের মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কে গাছের গুড়ি ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল।
এতে করে ব্যস্ততম মহাসড়ক অবরোধ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তারা এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করেন।
এদিকে অবরোধ শুরুর কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ শিক্ষকদের একটি দল শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তবে জনদুর্ভোগ লাগবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, হামলার সময় রেজিস্ট্রার সেখানে ছিলেন না। এ কারণে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে রনি এবং ফিরোজ নামের দুই শ্রমিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সজল ও মেমিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে এবং শ্রমিক রফিককে গ্রেফতার ১ ঘণ্টার মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এর জের ধরে ওই রাতেই গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের মেসে হামলা চালায়। হামলায় ২০ শিক্ষাথী আহত হয়, এদের মধ্যে ১৩ জনকে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর প্রতিবাদে পরেরদিন সকাল ৭টা থেকে টানা ১০ ঘণ্টা বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে, যদিও শিক্ষার্থীরা এর দায় নেয়নি। ওই হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মাধ্যমে পুলিশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলা ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বিকেল ৫টায় অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
আল্টিমেটাম শেষে ফের মহাসড়কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের মেসে পরিবহন শ্রমিকদের হামলা, আহত ২০
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের আশ্বাস, শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার









