বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় মৃত এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া মৃত এক ছাত্রলীগ নেতার বাসায় অভিযান চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে, ঢাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর সাইয়েদ আহমেদ মান্না সম্পর্কে কোনও তথ্য জানে না বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এ ঘটনায় ইউএনও এবং পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় শনিবার পর্যন্ত এজাহার নামীয় ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ৯৪ জন এবং অজ্ঞাত আরও তিন-চারশ’ জন। এছাড়া ইউএনওর করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ২৮ এবং অজ্ঞাত আরও ৬০-৭০ জন। মৃত আসামি নাদের পুলিশের দায়ের করা মামলার ২৭নং আসামি। তার বাসা নগরীর রূপাতলীতে।
এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সরকারি আইনজীবী একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘১৮ আগস্ট রাতের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলার মধ্যে পুলিশের দায়ের করা মামলায় মৃত আওয়ামী লীগ কর্মী মো. নাদেরকে আসামি করা হয়েছে। এমনকি সাত মাস আগে মারা যাওয়া ছাত্রলীগ নেতা মৃত মো. সাদ্দামের বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানকারী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাককেও আসামি করা হয়েছে পুলিশের মামলায়।
এছাড়া নেতাকর্মীদের বাসায় হানা দিয়ে পুলিশ ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মামলায় গোলাগুলির কথা উল্লেখ করা হলেও আনসার এবং পুলিশ সদস্যরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর একতরফা গুলি করেছে দাবি করে ওই মামলা প্রত্যাহারসহ পুরো ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন মহানগর সভাপতি।
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইয়েদ আহমেদ মান্নাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বোনের বাসা থেকে শুক্রবার রাতে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বড় বোন লুনা। তিনি তার ভাইয়ের সন্ধান দাবি করেন।
তবে কাউন্সিলর মান্নাকে গ্রেফতারের কোনও তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আলী আশরাফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অযথা কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।’ তবে মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে দায়ের হওয়া দুটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত দুই দিন ধরে বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে।









