ভরণপোষণ না দেওয়ায় ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা জাহানুর বেগম। শয্যাশায়ী হওয়ায় তার বাড়িতে হাজির হন বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাসুম বিল্লাহ। তার বাড়িতে আদালত বসিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ করেন তিনি। একই সঙ্গে মামলাটি গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে নগরীর বৈদ্যপাড়া পশ্চিমমাথা জোড়াপুকুর সংলগ্ন ফজিলত ভিলায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ। জবানবন্দি নেওয়ার সময় বিচারকের সঙ্গে ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মামলার বাদী বৈদ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহানুর বেগম মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ও মেয়ে সাবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন তিনি। মোস্তাফিজুর খুলনার শেখপাড়া পুরাতন মসজিদ রোড ইরাজমনিতে বাস করেন। সাবিনা বরিশাল নগরীর ধোপাবাড়ির মোড় এলাকার বাসিন্দা।
বাদীর পক্ষে মামলার আবেদন জমা দেন বৃদ্ধার আরেক ছেলে। নাম প্রকাশ না করার অনুরাধ জানিয়ে তিনি জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে মাকে তার কাছে রাখছেন। এখনও তার কাছেই। বিভিন্ন সময় মা ব্রেনস্ট্রোক, হার্টঅ্যাটাক, ডায়াবেটিস এবং সর্বশেষ প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। তার পেছনে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এখনও প্রতিমাসে মায়ের পেছনে এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করছেন। কিন্তু মায়ের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তার খুলনা শহরের জমিটি বিক্রি করা প্রয়োজন।
কিন্তু জমি বিক্রি করতে বাধা দিচ্ছেন ভাইবোন। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে তাদের সোর্স বসানো আছে। জমি বিক্রি করতে গেলে ভাইবোন সেখানে উপস্থিত হয়ে দুবার দলিল ছিঁড়ে ফেলেছেন। তাদের জন্য জমি বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে মায়ের উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, মোস্তাফিজুর বিভিন্ন সময় ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন। ওই টাকাও দেননি। অর্থ সংকটের বিষয়টি ভাইবোনকে জানালেও ব্যবস্থা নেননি। এ অবস্থায় মামলার আবেদন করেন মা।
তিনি আরও বলেন, ভাইবোনের টাকার প্রয়োজন নেই। মায়ের যে সম্পত্তি আছে, তা বিক্রি করতে বাধা না দিলে বিষয়টি এতদূর গড়াতো না। অভিযোগ পাওয়ার পর বিকালে আদালতের বিচারক সশরীরে বাসায় এসে মায়ের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এতে অনেক উপকার হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে মামলা নেন বিচারক। আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে প্রসেস ফি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
বিচারক মামলার আদেশে উল্লেখ করেছেন, বাদী জাহানুর বেগম লোক মারফত একটি মামলার আবেদন পাঠান। এতে মোস্তাফিজুর ও সাবিনাকে ভরণপোষণ আইনে আসামি করা হয়। আবেদন পাওয়ার পর বাহকের কাছে বাদীর অবস্থান জানতে চাইলে বলেন, শয্যাশায়ী।
বিকালে প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় গিয়ে বাদীর অবস্থান নিশ্চিত হই। প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শয্যাশায়ী জাহানুরের জবানবন্দি গ্রহণ করি। জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে বাদীপক্ষকে প্রসেস ফি জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রসেস ফি জমা দেওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হবে। আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হলো।
প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, শয্যাশায়ী হওয়ায় বাড়ি গিয়ে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন বিচারক। একই সঙ্গে মামলাটি আমলে নেন।








