পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় চুরির অপবাদে মাদ্রাসাছাত্রকে (১৩) নির্যাতনের তিন মাস পর ভিডিও ফুটেজ দেখে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত আগস্টে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের এলেমপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
সোমবার (৮ নভেম্বর) বিকালে চার জনের নাম উল্লেখ করে কলাপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর বাবা। এরপর ঘটনার মূলহোতা আবুল বাসারকে (৪২) গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযুক্তরা হলেন—মাসুদ ঘরামী (১৯), আলী আহমেদ (৫৬) ও মোসা. শেফালী বেগম (৪৫)। তারা এলেমপুর গ্রামে বাসিন্দা।
ঘটনার তিন মাস পর সম্প্রতি ওই মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতনের ২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, তার ডান পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর চারজন মিলে বেধড়ক মারধর করছে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও কেউ কাছে যেতে পারেনি। এ সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে জানায় স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, পাঁচ হাজার টাকা চুরির অপবাদে ৩ আগস্ট বিকালে জোর করে তুলে বাড়িতে নিয়ে যায় আবুল বসার, মাসুদ ঘরামী, আলী আহমেদ ও শেফালী বেগম। এরপর পায়ে শিকল দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। রাত ৮টা পর্যন্ত কয়েক দফায় নির্যাতন চালায়। পরে গ্রামের লোকজন অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন আছে ওই কিশোর। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারের আগে কোনওে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলে ঘরের দরজা খুলে দেয় অভিযুুক্তরা। উদ্ধারের পরে নির্যাতনের কথা কাউকে না বলার জন্য খুন-জখমের হুমকি দেয়। এরপর কাউকে কিছু বলেননি ভুক্তভোগীর মা-বাবা। তিন মাস পরে ফেসবুকে মারধরের ভিডিও দেখে পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর থানায় অভিযোগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
স্থানীয়রা জানায়, ভুক্তভোগীর মা মানসিক ভারসাম্যহীন। বাবাও অসুস্থ। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীকে পূর্ব শত্রুতার জেরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।








