বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বড় দুলালী গ্রামে চার মাসের শিশু জুবায়ের আহমেদকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনার পাঁচ দিন পর মা ছালেহা বেগম পলিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার পলি মামলার বাদী ও সাগির তালুকদারের স্ত্রী।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে পলিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নিহতের বাবা গরুর খামারি সাগির তালুকদার জানান, তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। প্রতিদিনের ন্যায় ১৮ ডিসেম্বর রাতের খাবার খেয়ে চার মাস বয়সী ছেলে জুবায়েরকে নিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী পলি এক খাটে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ১১টার দিকে ঘুম থেকে জেগে স্ত্রী ও ছেলেকে বিছানায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পড়ে গরুর ঘরের পাশে একটি বড় বালতির মুখ গামলা দিয়ে ঢাকা দেখতে পান। বালতির মুখের গামলা সরালে দেখতে পান, পানি ভর্তি বালতির মধ্যে জুবায়েরের মাথা নিচে ও পা ওপরের দিকে। বালতির ভেতর থেকে জুবায়েরের লাশ উদ্ধার করেন তারা। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও স্ত্রী পলির সন্ধান পায়নি।
তিনি আরও জানান, জুবায়েরের জন্মের পর থেকে পলি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। পলি প্রায়ই ‘স্বপ্নে আদেশ পেয়ে’ খাসি সদকা ও মনসা মন্দিরে দুধ-কলা দেয়। ঘুমের ঘরে চিৎকার করে উঠতো। পলি স্বপ্নে আদেশ পায়, ‘জুবায়ের বেঁচে থাকলে সংসারে শান্তি হবে না’। এমনকি দুই সন্তানকে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলবে বলে একাধিকবার তাকে জানিয়েছে।
জুবায়েরের বড় বোন সাগরিকা জানায়, তার ছোট ভাই জুবায়ের জম্মের পর থেকেই তার মা প্রায়ই স্বপ্নে আদেশ পেয়ে আবোল-তাবোল বলতেন। এ জন্য তাকে অনেক ঝাড়ফুঁক দেওয়া হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় ১৯ ডিসেম্বর নিহতের বাবা সাগির তালুকদার বাদী স্ত্রী পলিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এরপর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে আসছিল।








