পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মন্দিরে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার অভিযোগে গ্রেফতার ইদ্রিস খানকে (৪৬) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) পটুয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম (বাউফল আমলি) আদালতের বিচারক জামাল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাজাহান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বগা ইউনিয়নের উত্তর রাজনগর-পালপাড়া সার্বজনীন কালী মন্দির এলাকা থেকে ইদ্রিসকে আটক করে বাউফল থানা পুলিশ। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের শাপলাখালী গ্রামের সিদ্দিক খানের ছেলে। পটুয়াখালীর দুমকীর জলিসা এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।
বাউফল থানার ওসি আল মামুন জানান, বগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ইদ্রিসকে আটক করা হয়। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননা এবং সম্প্রীতি নষ্ট ও অনধিকার প্রবেশের অপরাধে মামলা করে। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানানোর জন্য পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, কেন, কী কারণে ইদ্রিস ওখানে আসলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকায় তার কোনও আত্মীয়-স্বজন আছে কিনা এবং তার ইতিহাসও বের করার চেষ্টা করছি। তবে এখন পর্যন্ত ইদ্রিসের কোনও রাজনৈতিক বা অন্য পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্বানীয়রা জানায়, উত্তরপালপাড়া রাধা গোবিন্দ মন্দিরে গত তিন দিন ধরে রাত দিন নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই বুধবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠান চলাকালীন এক ব্যক্তি ব্যাগ নিয়ে অনুষ্ঠানে আসেন। মন্দিরে ঢুকতে চাইলে তাকে বাঁধা দেন মন্দিরের পুরোহিত শুকরঞ্জন বৈরাগী। পরে তিনি মন্দির থেকে চলে আসেন। ওই রাতে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান থেকে সঞ্জয় পাল নামে স্থানীয় এক যুবক বাড়ি ফেরার সময় দেখতে পান, রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ৩শ’ মিটার দূরে কালীমাতা মন্দির থেকে ইদ্রিস বের হচ্ছেন।
সঞ্জয় পাল বলেন, ‘কালীমাতা মন্দির থেকে ওই ব্যক্তিকে বের হতে দেখে আমি পরিচয় জানতে চাই। তিনি নাম বলেন ইদ্রিস। মন্দির থেকে কেন বের হলেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেজদা দিতে মন্দিরে গিয়েছিলাম। আপনি মুসলিম হয়ে মন্দিরে গেলেন—এই প্রশ্ন করলেই ইদ্রিস দৌড় দেন। এ সময় আমি ডাক-চিৎকার দিলে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের লোকজন এসে তাকে আটক করে।’
স্থানীয়রা মন্দিরে কালীমাতা প্রতিমার সামনে ঘটের ওপর একটি হাতব্যাগ পায়, যার ভেতরে পবিত্র কোরআন শরীফ পাওয়া যায়। ইদ্রিস কোরআন শরীফ রাখার বিষয়টি স্বীকার করে ‘ভুল হয়েছে’ বলে জানান। এরপর এলাকাবাসী বাউফল থানা পুলিশে খবর দেয়। ভোর ৪টায় পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মন্দিরের সভাপতি দিলীপ পাল বলেন, ‘বাউফল হলো দেশের সম্প্রীতির উদাহরণ। এটা নষ্ট করার জন্যে এমন ঘটনা ওই ব্যক্তি কার প্ররোচণায় করেছে তা প্রশাসনের গভীর ভাবে দেখা উচিত।’
বগা ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান মো. হাসান জানান, ‘ওই মন্দির এলাকার উত্তম পাল নামের একজন আমাকে রাত সাড়ে তিনটার দিকে ফোন দিয়ে বলেন, ইদ্রিস নামে এক ব্যক্তি কোরআন রেখে পালানোর সময় আমরা আটক করেছি। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।’
পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (পিপিএম) বলেন, ‘ঘটনার মূল তথ্য বের করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। মন্দির এলাকায় পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।’









