বরিশাল থেকে ‘নিখোঁজ’ ছাত্রদল নেতা ফোরকান হোসেন ইরানকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৯ অক্টোবর) রাতে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের নারায়নপুর এলাকার মসজিদ সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, গতকাল রাত ৮টার দিকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে জঙ্গলে ঢুকে শিকলে হাত-পা বাঁধা এবং গেঞ্জি গলায় পেঁচানো অবস্থায় ইরানকে দেখে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। উদ্ধারের পর তারা পুলিশে খবর দেন। এরপর আত্মীয়-স্বজনকে খবর দিয়ে তাদের কাছে ইরানকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ইরান উজিরপুরের ধামুরা এলাকার বাসিন্দা আলাম চান সরদারের ছেলে। তিনি বরিশাল নগরীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্লোবাল অব ভিলিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিবিএ’র শিক্ষার্থী। নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন ইরান। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সাধারণ সম্পাদক। গত শনিবার রাত থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনদের দাবি, একটি সাদা মাইক্রোবাসে কে বা কারা ইরানকে তুলে নিয়ে গেছে।
মন্টু হাওলাদারসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জঙ্গলের মধ্য থেকে বাঁচাও বাঁচাও আওয়াজ আসছিল। আওয়াজ শোনার পরও অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান। পরে কয়েকজন জঙ্গলে ঢুকে ইরানকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার হাত-পা শিকল ও তালা দিয়ে বাঁধা ছিল। এরপর প্লাস ও হাতুড়ি দিয়ে দুটি তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। ওই সময় ইরান সবাইকে জানান, তাকে বরিশাল নগরী থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এনে জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়েছে। তার মুখ বাঁধা ছিল। এ কারণে চিৎকার করতে পারেননি। মুখের বাঁধন সরে গেলে ডাক-চিৎকার দেন। যারা তুলে নিয়ে গেছে তাদের চেনেন না বলে দাবি করেন তিনি।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ তাকে যে স্থান থেকে নিখোঁজ হন, তা কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন। তবে কী কারণে, তাকে কারা কেন অপহরণ করেছে সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি ইরান।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সগীর হোসেন জানান, ছাত্রদল নেতা ইরানকে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় সাদা রঙের মাইক্রোবাসে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর রবিবার রাতে ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই রাব্বিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাজানো ঘটনার রহস্য ফাঁস হওয়ায় বিষয়টি টের পেয়ে উদ্ধারের নাটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাদের দাবি অনুযায়ী রাত ১০টায় ইরানকে তুলে নেওয়ার কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তাদের কাছে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। সেখানে এ ধরনের কোনও কিছুই পাওয়া যায়নি।
বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু বলেন, ‘ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। তাতে দেখা যায়, ইরান হেঁটে বের হয়ে রাব্বির কাছে মোবাইল ফোন দিয়ে চলে যাচ্ছেন। তাছাড়া প্রশাসনের নজরে থাকার মতো কোনও কর্মকাণ্ড করেননি ইরান। সামনে কমিটি হবে। সহানুভূতি নিয়ে বড় পদ নেওয়ার জন্য সাজানো নাটক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
ইরানের চাচাতো ভাই মো. রাব্বি গতকাল জানিয়েছিলেন, তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন অচল হয়ে পড়ায় শনিবার বিকালে তা সচল করতে নগরীতে আসেন। চাচাতো ভাই ফোরকাকে নিয়ে সদর রোড থেকে মোবাইল ফোন ঠিক করেন। এরপর হাঁটতে হাঁটতে ইরানের ভাড়া বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈর্ষাবসু রোডের মাথায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় অতিক্রমের পরপরই একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে তাদের গতিরোধ করে। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গেঞ্জি পরিহিতরা ইরানকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার নাম কি ইরান?, তিনি উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ’। এরপর তাদের সঙ্গে ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। এ সময় ইরান তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রাব্বির হাতে দিয়ে মাইক্রোবাসে ওঠেন।









