বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) প্ল্যান অনুমোদন ও হয়রানির প্রতিবাদ এবং আন্দোলনরতদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাউন হলের সামনে বরিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচী চলাকালে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী আবু সালেহসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, দেড় বছরের অধিক সময় ধরে সিটি করপোরেশন থেকে বহুতল ভবনের প্ল্যান দেওয়া হচ্ছে না। এতে ডেভেলপার থেকে শুরু করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন নির্মাণ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন আইনের দোহাই দিয়ে প্ল্যান অনুমোদনে জটিলতার সৃষ্টি করে রেখেছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্ল্যান অনুমোদনের দাবি জানান। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বাসদ।
দাবির মধ্যে রয়েছে- ১২০০ প্লানের অনুমোদন দেওয়া, ইমরাত বিধিমালা ২০২০ পুনর্বহাল, প্ল্যান নিয়ে হয়রানি বন্ধে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু, মেয়াদোত্তীর্ণ মাস্টার প্ল্যান বাতিল এবং প্ল্যান অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করা।
তারা আরও জানান, সোমবার সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশন কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় মাইক টানাতে গেলে সেখানে বাধা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ জনের একটি টিম প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তখন তাদের আন্দোলনের জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এর এক পর্যায়ে তার রুম থেকে বের হওয়ার পর কর্মচারীরা হামলা চালায়। এতে তাদের চার জন আহত হয়। আন্দোলন থেকে ওই হামলার বিচার দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, তাদের কার্যালয়ে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। উল্টো তারা প্রশাসকসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধান নির্বাহী আরও বলেন, প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে ১৯৯৬ সালের আইনের বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে ২০২০ সালের আইন খসড়া হয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে এর সুবিধা সবাই ভোগ করতে পারবে। ইতিমধ্যে ১০০-এর ওপরে প্ল্যান পাস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এরপর আরও অনেক প্ল্যান অনুমোদনের জন্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।









