চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশের ছোট-বড় প্রায় আড়াই হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লা অঞ্চলের সামাজিক বনায়ন বিভাগ। নিলামে তোলার জন্য ইতোমধ্যে গাছগুলোর গায়ে নম্বর বসানো হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, একসঙ্গে এতো গাছ কাটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আর এ খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকার সাধারণ মানুষ।
বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের গাছ পালন বিভাগের এসও জহিরুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৫ সালে চাঁদপুর থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের দু’পাশ ৩৫ বছরের জন্য লিজ নেন বাগাদী এলাকার মঞ্জু পাটওয়ারী। তিনি এ গাছগুলোর সুবিধাভোগী। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে নিলামের জন্য দুই হাজার ৩৯৬টি গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে গাছগুলো নিলামে বিক্রি হবে। ওই ব্যক্তির লাগানো গাছের বাইরে অন্য গাছ কাটা হবে না। গাছ বিক্রির টাকার অর্ধেক মঞ্জু পাটওয়ারী পাবেন এবং বাকি অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
এদিকে সরেজমিনে ওই মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ও পুরাতন সব গাছেই লিজের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই এ এলাকার মানুষের জীবন প্রায় বিপন্ন। তাই গাছগুলো কেটে ফেললে এলাকার পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ সময় এলাকাবাসী লিজ নেওয়া ব্যক্তিদের অন্যভাবে সহযোগিতা করে গাছগুলো বাঁচানোর আহ্বান জানান।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা সফিকুল আমিন আপেল জানান, তাদের না জানিয়ে সড়ক ও জনপথের বৃক্ষ পালন বিভাগ এ সড়কে বন বিভাগের লাগানো গাছও মার্ক করেছে। তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবদিন জানান, মহাসড়কের গাছের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ তারা সমর্থন করেন না।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রতন মজুমদার বলেন, অপরিকল্পিতভাবে সড়কের দুপাশের গাছ কাটার কারণে মাটি ক্ষয়ে প্রতি বছর সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশও নষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, বন মন্ত্রণালয়ের আইন কানুন মেনে এগুলো করতে হয়। আইন অনুযায়ী বিক্রি করার কতগুলো নিয়মও আছে। তা মানা হয়েছে কিনা তাও দেখতে হবে। তাছাড়া গাছ কাটা হলে আবার কতোটি গাছ লাগাতে হবে তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ্রত দত্ত বলেন, সড়ক ও জনপথের সামাজিক বনায়ন বিভাগ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। এর সঙ্গে তাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।
এ ব্যাপারে গাছগুলোর সুবিধাভোগী মঞ্জু পাটওয়ারী’র সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ নানা মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু
/এসএনএইচ/টিএন/আপ-এআর/







