ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) নানিয়ারচর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রমেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গঠিত কমিটি আরও ১৫ দিনের সময় চেয়েছে। দুর্গম এলাকা ও তদন্ত কমিটির একজন সদস্যের অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে তদন্ত কার্যক্রমে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বাঞ্ছিতা চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘আমরা কাজ শুরু করার পর আমাদের এক সদস্য যিনি জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি বদলি হয়ে গেছেন। এ কারণে কমিটির কাজ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন শিগগিরই নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এরপরই কাজ শুরু করা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের জন্য সময়টি খুব অল্প। এছাড়া এলাকাগুলোও দুর্গম। তাই আমরা সময় চেয়েছি। আশা করি সময় পাওয়া যাবে। তারপর নতুন করে কাজ শুরু করবো। কাজ শেষ হলে সবাইকে জানানো হবে।’
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রমেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাঞ্ছিতা চাকমাকে আহ্বায়ক, কমিশনের রাঙামাটি অফিসের উপ-পরিচালক গাজী মো. সালাউদ্দিনকে সদস্য সচিব ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিউজ্জামানকে সদস্য করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ১ মে নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের হাতিমারা এলাকায় রমেলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, নানিয়ারচর উপজেলায় দুইটি ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল নানিয়ারচর বাজার থেকে রমেল চাকমাকে আটক করে সেনাবাহিনী। একদিন পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় রমেল চাকমা বুকে ব্যথা অনুভবের কথা জানালে ৬ এপ্রিল তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ এপ্রিল মারা যান তিনি। সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রমেলের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে পিসিপি। তবে সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
/এফএস/
আরও পড়ুন-
হলি আর্টিজানের মতো ঝুঁকি এখনও রয়েছে: ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত







