ভারী বৃষ্টিতে খুশি খাগড়াছড়ির কৃষকরা, চলছে আমন রোপণ

জসিম মজুমদার, খাগড়াছড়ি
১২ আগস্ট ২০১৭, ১৩:০৭আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৭, ১৩:০৭

পাহাড় ধস এবং পাহাড়ি ঢলের আতঙ্ক থাকলেও ভারী বৃষ্টিতে খুশি হয়েছেন খাগড়াছড়ির কৃষকরা। টানা বর্ষণে পানি বাড়ায় আমনের রোপণ চলছে জোরেশোরে। কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মাসেই শেষ হবে আমন রোপণের কার্যক্রম। বৃষ্টিতে জেলার কৃষকদের জন্য আনন্দ নিয়েই এসেছে।

চলছে আমন রোপণ খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবছর ২৭ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে বিরি-১১, বিরি-৩৯, বিরি-৪৯, বিরি-৫২, বিরি-৫৬ জাতের উফসি জাতের এবং বাকি ২ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় কালোজিরা ধানের চাষ হবে। কিছুদিন আগে যে টানা বর্ষণ হয়েছে, তাতে লাভবান হয়েছে কৃষকেরা। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি চাষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই চাষ সম্পন্ন হবে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতি হেক্টরে ২.৮০ হেক্টর উফসি চাল এবং ১.৬৮ হেক্টর স্থানীয় জাতের চাল উৎপাদন সম্ভব হবে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সাথোয়াই মারমা নামের এক কৃষক বলেন, ‘বৃষ্টি হওয়ার কারণে হাল চাষে সুবিধা হয়েছে। গত বছর নদী থেকে পানি তুলে জমি চাষ করতে হয়েছিলো। কিন্তু চলতি বছর বেশি বৃষ্টি হওয়ায় পানির সমস্যা হয়নি। জমিনে এমনিতেই পানি উঠেছে।’

খাগড়াছড়িতে আমন রোপণ মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকার কৃষক রিংকু চাকমা বলেন, ‘বৃষ্টি হওয়ার কারণে ঠিক সময়ে চাষ দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং আমন ধান লাগানোও সম্ভব হচ্ছে।’ তিনি এবছর প্রায় ১০ কানি জমিতে বিরি-৪৯ ধান লাগিয়েছেন বলে জানান।

মাটিরাঙা উপজেলার আদর্শগ্রাম এলাকার কৃষক নুরুল কবির জানান, তাদের এলাকার কৃষি জমিগুলো অপেক্ষাকৃত উঁচুতে অবস্থিত। বৃষ্টি হওয়ার কারণে চাষে সুবিধা হয়েছে। গত বছর তাদের মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করে প্রতি হেক্টরে ৫/৭ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু এবছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় তাদের লাভ হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তরুণ ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘বিগত সপ্তাহে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদিও ভারি বর্ষণ হয়েছে, তাতে কৃষকদের কোনও লোকসান হয়নি। এই বৃষ্টিপাতে অনেক উঁচু জমিতে পানি জমেছে এবং কৃষকেরা আমন চাষ শুরু করেছে। এই বৃষ্টির কারণে জেলায় চলতি আগস্ট মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আমন রোপণ সম্ভব হবে।’

/এমও/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী