কুমিল্লার ১৬টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৮১টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। শূন্য রয়েছে ৮৩৭টি সহকারী শিক্ষকের পদও। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে এসব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজেও দেখা দিয়েছে নানা ধরনের সমস্যা। নিয়োগ জটিলতা ও অবসরে যাওয়ার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শূন্যপদগুলো দ্রুত সময়ে পূরণ করা প্রয়োজন বলে অভিভাবক ও শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ২ হাজার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের ৮১১টিতে প্রধান শিক্ষক এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ৮৩৭ জন সহকারী শিক্ষক নেই।
উপজেলাওয়ারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদের সংখ্যা হচ্ছে, আদর্শ সদরে প্রধান শিক্ষক ২৪টি এবং সহকারী শিক্ষক ৬৭টি; লাকসামে প্রধান শিক্ষক ২৬টি এবং সহকারী শিক্ষক ৩০টি; দেবিদ্বারে প্রধান শিক্ষক ৮০টি এবং সহকারী শিক্ষক ১৫টি; মুরাদনগরে প্রধান শিক্ষক ৭৪টি এবং সহকারী শিক্ষক ৬৮টি; দাউদকান্দিতে প্রধান শিক্ষক ৭২টি এবং সহকারী শিক্ষক ১৩৩টি; বরুড়ায় প্রধান শিক্ষক ৭৩টি এবং সহকারী শিক্ষক ১৮টি; বুড়িচংয়ে প্রধান শিক্ষক ২১টি এবং সহকারী শিক্ষক ৬টি; চান্দিনায় প্রধান শিক্ষক ৩৯টি এবং সহকারী শিক্ষক ১৮টি; হোমনায় প্রধান শিক্ষক ৩২টি এবং সহকারী শিক্ষক ৩৯টি; নাঙ্গলকোটে প্রধান শিক্ষক ৭৪টি এবং সহকারী শিক্ষক ১৪০টি; মেঘনায় প্রধান শিক্ষক ৩৩টি এবং সহকারী শিক্ষক ৪৩টি; মনোহরগঞ্জ প্রধান শিক্ষক ৫৩টি এবং সহকারী শিক্ষক ৯২টি; তিতাসে প্রধান শিক্ষক ৯২টি এবং সহকারী শিক্ষক পদ ২৭টি।
প্রধান শিক্ষকের পদগুলো সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে চালাতে হচ্ছে। এতে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। বাড়তি দায়িত্ব পালনের কারণে তারা সময় মতো ক্লাস নিতে পারছেন না। এতে শিক্ষকদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরীক্ষার মাধ্যমে ৩৫ ভাগ নিয়োগ দিয়ে থাকে। বাকি ৬৫ ভাগ নিয়োগ হয় পদোন্নোতির মাধ্যমে। নিয়োগ ক্ষেত্রে নিয়মনীতি পালনের জটিলতা ও কোনও কোনও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় পদগুলো শূন্য হয়ে যায়। একইভাবে সহকারী শিক্ষকদের অবসরে যাওয়ার কারণে শিক্ষকের পদও শূন্য হয়ে যায়। এসব পদ ৬ মাস থেকে ৭/৮ বছর পর্যন্ত পূরণ হয় না বলে জানা যায়।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার একটি স্কুলের শিক্ষার্থী জামাল হোসেন জানায়, তাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক নেই। অন্য শিক্ষকও কম। তাই তাদের ঠিকমতো লেখাপড়া হয় না।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লা শাখার সভাপতি প্রফেসর মমিনুল হক বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাথমিক স্তর। এই স্তরে কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা নেয়। এদের থেকে বেরিয়ে আসে ভবিষ্যতের প্রতিভাবান ও যোগ্য প্রজন্ম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষা দিতে না পারলে এরা ভবিষ্যতের দিকে ভালোভাবে এগুতে পারবে না। শিক্ষক সংকট এদের মেধা বিকাশে প্রভাব ফেলে। তাই শিক্ষক সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে। দ্রুত সময়ে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে হবে। ’
প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট সম্পর্কে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের ৬৫ ভাগ শূন্যপদ পূরণের জন্য সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে চলতি দায়িত্ব প্রদানের কার্যক্রম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে চলছে। অধিদফতর থেকে প্রণীত তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০১৪ সালে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সে অনুসারে আবেদনপত্রও জমা হয়। এর পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে সেসব আবেদনকারীর পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার সম্ভাবনা রয়েছে।’







