তাসফিয়ার সিএনজিতে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
০৮ মে ২০১৮, ২০:১৪আপডেট : ০৯ মে ২০১৮, ১০:৪২

তাসফিয়া আমিন ‘আমার বাসা থেকে চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের দূরত্ব সর্বোচ্চ ৭০০ গজ হবে। তাসফিয়া সবসময় গাড়িতে চড়তো বলে সুযোগ পেলেই সে হাঁটতে চাইতো। স্বল্প এই দূরুত্বের জন্য তাসফিয়ার সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার কথা না।’ এই কথাগুলো বলেন তাসফিয়া আমিনের বাবা মোহাম্মদ আমিন। লাশ উদ্ধারের প্রায় এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও তাসফিয়ার মৃত্যু রহস্যের কোনও কূল-কিনারা হয়নি। রহস্যের সমাধান করতে মৃত্যুর আগে তার সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। সন্দেহের তীর ঘুরপাক খাচ্ছে তার বন্ধু আদনানকে ঘিরে।  তাসফিয়াকে পতেঙ্গা নিয়ে যেতেই পরিকল্পিতভাবে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করা হয়েছিল কিনা, তদন্ত সংশ্লিষ্ট অনেকেই এই প্রশ্ন তুলেছেন।  

তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে আমরা দেখেছি তাসফিয়া বের হয়ে আগে থেকে রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটা সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে। উঠার আগে তাকে অটোরিকশার ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে আদনানকে দেখা গেছে, সে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার আগে ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলছে।’

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চায়না গ্রিল থেকে বের হয়ে আদনান ও তাসফিয়া দুই জন দুই দিকে চলে গেছে। তাসফিয়া ডান দিকে গিয়ে সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে। অন্যদিকে বাম দিকে গিয়ে অন্য একটি সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে আদনান। সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার আগে আদনানকে ড্রাইভারের সঙ্গে  কথা বল দেখা গেলেও তাসফিয়াকে ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়নি।

তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আদনানসহ ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তাসফিয়ার বাবা। ওই মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনক বলেন, ‘মামলার এজহারভুক্ত আসামিদের আরও দুয়েক জনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারলে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হতো।’  তিনি আরও বলেন, ‘চায়না গ্রিল থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য তাসফিয়ার সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করাটা রহস্যজনক। সে চাইলে হেঁটে অথবা রিকশায় যেতে পারতো। অথবা আদনানের বাসা যেহেতু একই দিকে সেহেতু আদনান চাইলেও একই সিএনজিতে করে তাকে নামিয়ে দিতে পারতো।’

গত ২ মে বুধবার সকালে নগরীর পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে তাসফিয়ার লাশ দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে মরদেহটি তাসফিয়া আমিনের বলে শনাক্ত করেন। তাসফিয়া নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি টেকনাফের ডেইল পাড়া এলাকায়। তাসফিয়া পরিবারের সঙ্গে নগরীর ওআর নিজাম আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কের কে আর এস ভবনে থাকতো। এর আগে ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার (১ মে) সন্ধ্যায় তাসফিয়া তার ছেলে বন্ধু আদনানের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে তাসফিয়া আমিনের লাশ

এ ঘটনায় পুলিশ বুধবার (২ মে) রাতে তাসফিয়ার ছেলে বন্ধু আদনানকে আটক করে। পরে বৃহস্পতিবার (৩ মে) দুপুরে এ ঘটনায় তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আদনানসহ ছয়জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলো- সোহেল (১৭), শওকত মিরাজ (১৭), আসিফ মিজান (১৭), ইমতিয়াজ ইকরাম (১৭),  সুলতান (২৪) ও ফিরোজ (৩০)। মামলা দায়েরের পর গত ছয় দিনে পুলিশ এই ৫ আসামির একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনার তদন্তে পুলিশের উল্লেখযোগ্য কোনও সফলতাও নেই। এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনও ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ জানিয়েছে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে অনেক অগ্রগতি থাকলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এ আশঙ্কায় তারা এখনই কিছু প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের মোবাইলগুলো বন্ধ। মোবাইল ট্র্যাক করে এগুতে হচ্ছে। তাই হয়তো একটু সময় লাগছে। এগুলোর পাশাপাশি আরও যে বিষয়গুলো আছে,  সবগুলো যাছাই-বাছাই করে এগোতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা হত্যাকাণ্ড ঘটলে সেখানে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। সবগুলো বিষয় অনুসন্ধান করার পর যতক্ষণ না আমরা একটা কনক্লুশনে পৌঁছাতে পারবো, ততক্ষণ আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা এখন একটা কথা বলে দেবো, কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অথবা কেমিক্যাল এনালাইসিসে আসলো ভিন্ন কথা, তখন কী হবে? ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্ট, ভ্যাজাইনা সোয়াপ রিপোর্ট, কেমিক্যাল এনালাইসিস এসব রিপোর্ট হাতে পেতে দুই/চার দশ দিন সময় লেগে যায়। এসব রিপোর্টের সঙ্গে যদি আমাদের (পুলিশের) তদন্ত রিপোর্ট মিলে যায় তখন আমরা একটা ঘটনার রহস্য রিভিল করি। আমাদের তো ৫/১০দিন সময় দিতে হবে।’

জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে একটু সময় লাগে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনও উম্মোচিত হয়নি। সেখানে এ ঘটনায় তো মাত্র ছয়দিন পার হলো। তবে আমাদের এত বেশি সময় লাগবে না। আমরা আশা করছি ৮/১০ দিনের মধ্যে ঘটনার রহস্য উম্মোচন করতে পারবো।’


আরও পড়ুন-

পরীক্ষার জন্য তাসফিয়ার ভিসেরা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে
‘তাসফিয়ার মৃত্যুর তদন্তের উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি নেই’

স্কুলছাত্রী তাসফিয়ার মৃত্যু: আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

‘সোহেলকে গ্রেফতার করা গেলে জানা যাবে তাসফিয়ার মৃত্যু রহস্য’

আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে: তাসফিয়ার বাবা

স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা: যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামে তাসফিয়া হত্যা: আদনানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

 

 

 

/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম