নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার আসামি কামরুন নাহার মনি ও জাবেদ হোসেনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে ফেনীর আদালতে হাজির করা হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকাল পাঁচটার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফেনী তাদের আদালত এলাকায় নিয়ে আসে। পরে তাদের ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য হাজির করা হয়। পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল এই তথ্য জানিয়েছেন।
এসপি মো. ইকবাল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নুসরাত হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি জাবেদ হোসেনকে দু’দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে সাত দিন ও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। শনিবার সকালে জাবেদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আলামত হিসেবে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত একটি বোরকা সোনাগাজীর খাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কামরুন নাহার মনিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। মনিকেও শুক্র এবং শনিবার দুই দিন সোনাগাজী উপজেলা সদরের মানিক মিঞা মার্কেটের যে দোকান থেকে বোরকা কিনেছে সেই দোকানে নেওয়া হয়। সেখানেও অভিযান চালায় পিবিআই। মাদ্রাসার যে সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে নুসরাতের গায়ে মনি কেরোসিন ঢেলেছিল ও পরে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছিল সেখানে তাকে নেয় পিবিআইয়ের তদন্ত দল।
ফেনী পিবিআই’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ১২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেনী শহরের রামপুর এলাকা থেকে জাবেদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। ১৬ এপ্রিল দুপুরে মনিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে আটক করা হয়।
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল রাতে আদালতে হত্যা মামলায় গ্রেফতার নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায়, বোরকা পরে পাঁচজন এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। এর জন্য শামীম পপিকে দুই হাজার টাকা দিয়েছিল। পপি এই টাকা মনিকে দিয়েছিল বোরকা বানাতে। মনি এই টাকা দিয়ে তিনটি বোরকা ও তিন জোড়া হাতমোজা কিনে শামীমকে দেয়। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে নিয়ে আসে। ওই সময় ছাদে মনি নুসরাতের গায়ে কেরোসিন দেয়।
প্রসঙ্গত গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে সে (নুসরাত) ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।






