বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি। সোমবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নুর-ই-আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য জানাবে।
তদন্তে এ ঘটনায় আরও তিন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তাদের এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা কমিটি।
নুর-ই-আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ স্যারের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়ার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এদের মধ্যে স্যারের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেন মাহমুদুল হাসান। অপর তিন জনের মধ্যে মো. শেখ রাসেল শাহেন শাহ নামে এক শিক্ষার্থী পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দেন। অপর দুই জন হলেন−ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী হোসাইন ও মো. মইনুল আলম।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ ঘটনায় জড়িত চার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাহমুদুলকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। অপর তিন জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে আগামী সাত দিন অর্থাৎ ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে কেন বহিষ্কার করা হবে না, এই মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ ইউএসটিসির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরের পর গত বছর তিনি ইউএসটিসিতে যোগ দেন। গত ২ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চম সেমিস্টারের ক্লাস শেষ করে বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে গেলে সেখানে মাসুদ মাহমুদের সঙ্গে একই বিভাগের শিক্ষার্থীদের তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষককে টেনে হিঁচড়ে লিফটে নিচে নামিয়ে আনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ মাহমুদুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে। পরে ওই শিক্ষার্থী অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।







