প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করবেন আজ রবিবার। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী এই কাজ উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ রানওয়ে বিশিষ্ট বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে এটি।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হবেন। কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রান্তে থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান, বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান, কক্সবাজারের সংসদ সদস্যবৃন্দ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
বিমানবন্দরটির প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে হবে। যা রাজধানীর হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের (১০ হাজার ৫০০ ফুট) চেয়েও বেশি। এর ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৪-এর মতো বড় আকারের বিমানগুলো এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে এবং এর ফলে এখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করার পথ সুগম হবে। এ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দর যাত্রা শুরু করবে।
বহির্বিশ্বের পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজে হাত দিয়েছে সরকার। এজন্য বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের সম্প্রসারণ, এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড, লাইটিং সিস্টেম স্থাপনসহ বেশ কিছু কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এখনও চলমান রয়েছে অনেকগুলো কাজ। দেশে প্রথমবারের মতো কক্সাবাজারের সমুদ্রবক্ষে নির্মাণ করা রানওয়ের খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ৫শ’ ৬৯ কোটি টাকা। এ প্রকল্প পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা বিশ্ববাসীর কাছে নতুনমাত্রায় পরিচিতি লাভ করবে এবং পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশ্বের উপকূলীয় শহরে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরগুলোর কাতারে নাম লিখিয়ে দেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন এবং অ্যাভিয়েশন সেক্টরে রিজিওনাল হাব হিসেবে এটিকে গড়ে তোলাই সরকারের প্রচেষ্টা।








