বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবির) পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পিকআপ ভ্যানে করে শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পণ্য কার্যক্রম শুরু হয়। সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কেনার জন্যে ভোর থেকে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য ক্রয় করতে আসা সাধারণ মানুষ ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষরা জানান, তারা ভোর ৬টা থেকে পণ্য কেনার জন্যে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন,কিন্তু ডিলারের পরিচিত স্বজনেরা একাধিক বার এসে জোর করে লাইনে ডুকে পণ্য কিনেছেন। এতে তারা কাঙ্ক্ষিত পণ্য পাচ্ছেন না।
টিসিবির পণ্যের ভ্যান থেকে প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, মশুরের ডাল ৫৫ টাকা এবং তেল প্রতি লিটার ভোজ্য তৈল ১শ’ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। যা বর্তমান বাজার মূল্য থেকে কিছুটা সাশ্রয়ী।
শহরের মধ্যপাড়া থেকে পণ্য নিতে আসা রিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা সকাল ৭টায় এসে পণ্যক্রয় করার জন্যে লাইনে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত (বেলা ১১টায়) পণ্য নিতে পারছি না। একেক জন পাঁচবার-সাতবার করে নিয়ে যায়। ডিলারদের পরিচিত লোকেরা বেশ কয়েকবার করে এসে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন, অথচ আমার বাচ্চাকে নিয়ে আমি দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।তারা আমার বাচ্চাকে লাইন থেকে বের করে দিয়েছে।’
অপর গৃহবধূ রোকসানা আক্তার বলেন, ‘এক পরিবারের তিন-চার জন করে পণ্য নিয়ে গেছে। আবারও লাইনে দাঁড়িয়েছে। তাদের বারবার দেওয়া হচ্ছে। অথচ আমরা সকাল থেকে লাইনে আছি, আমাদের দিচ্ছে না। আমরা কি পণ্য নেওয়ার উপযুক্ত কিনা? তাদের কোন প্রক্রিয়ায় বার বার পণ্য দেওয়া হচ্ছে। কোনও বাধা দেওয়া হয় না কেন।কিছু বললে বিক্রেতার লোকজন খারাপ আচরণ করেন।’
ফরিদ মিয়া নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, ‘ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দেখছি, সরকারি পণ্য বিক্রি হচ্ছে অথচ সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। টিসিবির ডিলার যা ইচ্ছে তাই করছে। তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য পাচ্ছি না, অথচ হঠাৎ করে বাইরে থেকে কারা যেন এসে পণ্য নিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে, অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে টিসিবির ডিলার বিসমিল্লা ট্রেডার্সের ম্যানেজার মো. রনি মিয়া জানান, তারা তাদের সাধ্যমতো পণ্য বিক্রি করে যাচ্ছেন। তবে পণ্যের বরাদ্দ আরও বেশি হলে বিক্রি করতে আরও সুবিধা হতো। এতে পাবলিকের ঝামেলা কম হতো বলে জানান তিনি।
এদিকে নিয়ম অনুযায়ী টিসিবি ডিলার যেন পণ্য স্টক করতে না পারেন, টিসিবি পণ্য বিক্রয় কালে মনিটরিং করার জন্যে জেলা প্রশাসনের একজন নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্য থাকার কথা রয়েছে। তবে সকাল থেকে তাদের কাউকে দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-দৌলা খান জানান, সকাল থেকে গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ চলমান থাকায় কিছু সময়ের জন্য জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা ওই কার্যক্রমে কিছুটা সময় দিয়েছিলেন। তাই হয়তো সকালের মনিটরিং যথা সময়ে করা হয়নি। কেউ এ সুযোগ নিয়ে থাকতে পারে।তবে টিসিবি পণ্য বিক্রিতে কোনও অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তদন্ত করে ওই টিসিবি ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









