কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লাজৈর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই শিশু হত্যা মামলার আসামি মাজেদা বেগমকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পর শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উপজেলার দক্ষিণ চিকনছড়া ইউনিয়নের একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। মাজেদা বেগম মুরাদনগর লাজৈর গ্রামের সেলিমের স্ত্রী।
রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা র্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল লাজৈর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে আরাফাত (৬) ও শাহ আলমের ছেলে জসিমকে (৭) হত্যা করে ইয়াসমিন। সে নিহত আরাফাতের আপন চাচি ও জসিমের চাচাতো ভাবি। হত্যা শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ইয়াসমিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ইয়াসমিন জনসম্মুখে স্বীকার করে, ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে আরাফাতকে গলা কেটে ও জসিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে খালের কচুরিপানার নিচে ফেলে রাখে।
এ সময় ইয়াসমিন জানায়, হত্যাকাণ্ডে তার চাচি শাশুড়ি মাজেদা বেগম (৪৫) ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মাজেদা পলাতক ছিল। দুই শিশু হত্যার ঘটনায় ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল মুরাদনগর থানায় ইয়াসমিনকে প্রথম ও মাজেদা বেগমকে দ্বিতীয় এবং অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে আরাফাতের বাবা বিল্লাল হোসেন মামলা করেন।
সাকিব হোসেন জানান, ঘটনার পর সাত বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা, গাজীপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজের নাম বদলে কখনও গৃহকর্মী, কখনও পোশাককর্মী, কখনও আবার ওঝার ছদ্মবেশে আত্মগোপন করেছিল মাজেদা। সর্বশেষ গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকের ছদ্মবেশে গা ঢাকা দিয়ে ছিল। করোনাকালে চাকরি হারিয়ে ফটিকছড়ির পাহাড়বেষ্টিত ইউনিয়ন দক্ষিণ চিকনছড়ার দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম বাগমারার রাবার বাগানের পাশে ভাইয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিল। কতিপয় দালালের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনাও করে মাজেদা বেগম।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে এবং মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারির সূত্র ধরে অবশেষে মাজেদার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার রাতে দুর্গম পাহাড়ি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।









