চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই কনস্টেবল সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে গিয়ে আর দেশে ফেরেননি। তারও ৯ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে গিয়ে ফেরেননি আরেক কনস্টেবল। তার নাম মো. সোহাগ। পুলিশের সোয়াট দলের সদস্য হয়ে প্রশিক্ষণে গিয়েছিলেন তিনি। তার বাড়ি কুমিল্লায়।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ‘কুকুরের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক ১৫ দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আট সদস্যের একটি টিমকে গত ৯ মে নেদারল্যান্ডসে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছয় জন প্রশিক্ষণ শেষে ২৪ মে দেশে ফিরে আসেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল রাসেল চন্দ্র দে ও শাহ আলম ফেরেননি। রাসেলের বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পলাইন্নাকাটা এলাকায়। থাকতেন সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে। শাহ আলম কুমিল্লার বাসিন্দা। তিনি মনসুরাবাদ পুলিশ লাইনসের ব্যারাকে থাকতেন।
আরও পড়ুন: নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে গিয়ে ২ কনস্টেবল ‘নিখোঁজ’
এদিকে ২০১৩ সালের ২৭ মে ক্রিটিক্যাল রেসপন্স টিমের আওতায় অস্ত্রবিষয়ক উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় যান সিএমপির আট সদস্য। ৫ জুলাই পর্যন্ত তারা সেখানে ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে সাত সদস্য দেশে ফিরলেও সোহাগের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সোহাগদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রশিক্ষণ টিমে ছিলেন পুলিশ সদস্য মির্জা সায়েম মাহমুদ। তিনি এখন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (নগর বিশেষ শাখা) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার।
সায়েম মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই প্রশিক্ষণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ২৪ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে সিএমপি থেকে আমিসহ আট জন ছিলাম। সবাই ফিরে এলেও সোহাগ ফেরেননি। তিনি পাসপোর্ট নিয়ে প্রশিক্ষণের মাঝে লাপাত্তা হয়ে যান। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে গিয়ে উধাও পুলিশ সদস্য সোহাগ কোথায় আছেন, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই সিএমপির কর্মকর্তাদের কাছে।
সিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে গিয়ে পুলিশ সদস্য নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ওই সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে নগর পুলিশ। এখন নতুন করে নেদারল্যান্ডসে গিয়ে আরও দুই সদস্য নিখোঁজের বিষয়টি নতুন করে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর জন্য কসমেটিক কিনেছিলেন নেদারল্যান্ডসে নিখোঁজ পুলিশ সদস্য রাসেল
তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এ কে এম শহিদুর রহমান।
তিনি বাংলা ট্রিব্রিউনকে বলেন, ‘২০১৩ সালে সিএমপি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে গিয়েছিল একটি টিম। সোহাগ নামে টিমের এক সদস্য দেশে ফিরে আসেননি। আমার যতটুকু মনে পড়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।’
এদিকে কনস্টেবল রাসেল ও শাহ আলমের না ফেরার বিষয়ে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) আমির জাফর বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার আগের দিন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে হোটেল থেকে বের হন তারা। এরপর থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গীরা কোনও খোঁজ দিতে পারেননি। পুলিশ সদর দফতর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের খোঁজ করা হচ্ছে। তারা স্বেচ্ছায় পালিয়ে গেছেন, নাকি কোথাও বিপদে পড়েছেন তা জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরাও তাদের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।’









