আদালতের পর্যবেক্ষণ

‘প্রদীপ পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, ঘুষ-দুর্নীতিতে গড়েছেন সম্পত্তি’

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম 
২৭ জুলাই ২০২২, ১৭:৫৩আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ১৮:০১

টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে গড়েছেন অবৈধ সম্পত্তি। অবৈধভাবে অর্জিত উপার্জন হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে স্ত্রী চুমকি কারণের নামে জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়েছেন।

দুদকের করা মামলায় বুধবার (২৭ জুলাই) প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালত এসব তথ্য উল্লেখ করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ‘প্রদীপ কুমার দাশ প্রজাতন্ত্রের স্বল্প বেতনভোগী একজন কর্মচারী। চুমকি কারণ উক্ত কর্মচারীর স্ত্রী যিনি নিজে একজন গৃহবধূ। চুমকির নিজস্ব কোন আয় না থাকা সত্ত্বেও প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ উপার্জনকে বৈধ করার কৌশল হিসেবে চুমকি কারণকে মৎস্য ব্যবসায়ী ও কমিশন ব্যবসায়ী হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া দাখিল করা সম্পত্তির বিবরণীতে ২০ ভরি স্বর্ণের তথ্য গোপন করা হয়েছে। অপরাধ গোপনের লক্ষ্যে অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির মূল্য কম দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধ করেছেন।’

দুদকের করা এই মামলায় প্রদীপ কুমার দাশকে ২০ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদ এই রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালত চারটি ধারায় এই রায় ঘোষণা করেন। এরমধ্যে ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় প্রদীপ কুমার দাশকে খালাস দেওয়া হয়, এই ধারায় চুমকিকে এক বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে একমাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৭ (১) ধারায় প্রদীপ দুজনকেই আট বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২)(৩) ধারায় উভয়কে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও চার কোটি টাকার অর্থ দণ্ড, অনাদায়ে দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় এই দম্পতিকে দুই বছর করে করে কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অবৈধভাবে অর্জিত সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন এ মামলা করেন।

মামলায় তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। ওই বছরের এক সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। মামলার পর থেকে পলাতক ছিলেন চুমকি। গত ২৩ মে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে আগেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন কক্সবাজার আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ ও দুদকের মামলায় তার স্ত্রী চুমকি কারণ এতদিন কারাগারেই ছিলেন।

/এফআর/
সম্পর্কিত
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
সর্বশেষ খবর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি