X
রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২
৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

৭ মাসে দুবার বাড়ছে পানির দাম, ঋণ পরিশোধের কথা বলছে ওয়াসা

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম
০৫ আগস্ট ২০২২, ২১:১৯আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ২১:৩৪

চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম এক লাফে বাণিজ্যিকে ৩৮ দশমিক ২৫ ও আবাসিকে ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বাড়ছে। অর্থাৎ নতুন দাম অনুযায়ী আবাসিকে প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানির দাম ১৩ থেকে বাড়িয়ে ১৮ ও বাণিজ্যিকে ৩১ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। এ নিয়ে চলতি বছরের সাত মাসে দুবার পানির দাম বাড়িয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

একসঙ্গে পানির দাম এত বেশি বাড়ানোর বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে মনে করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বিষয়টি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে এসব ঋণের টাকা পরিশোধ শুরু হবে। এ কারণে পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে (২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত) পানির দাম আবাসিকে সাত টাকা ২৫ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ২০ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৭ টাকা।

ওয়াসার তথ্যমতে, ২০১৫ সালে আবাসিকে সাত টাকা ২৫ পয়সা ও বাণিজ্যিকে ২০ টাকা ৫৩ পয়সা; ২০১৬ সালে আবাসিকে সাত টাকা ৬১ পয়সা ও বাণিজ্যিকে ২১ টাকা ৫৬ পয়সা; ২০১৭ সালে আবাসিকে ৯ টাকা ও বাণিজ্যিকে ২৫ টাকা; ২০১৮ সালে আবাসিকে ৯ টাকা ৪৫ পয়সা ও বাণিজ্যিকে ২৬ টাকা ২৫ পয়সা; ২০১৯ সালে আবাসিকে ৯ টাকা ৯২ পয়সা ও বাণিজ্যিকে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সা; ২০২০ সালে আবাসিকে ১২ টাকা ৪০ পয়সা ও বাণিজ্যিকে ৩০ টাকা ৩০ পয়সা; ২০২১ সালে আবাসিকে ১২ টাকা ৪০ পয়সা ও বাণিজ্যিকে ৩০ টাকা ৩০ পয়সা; ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আবাসিকে ১৩ টাকা ২ পয়সা ও বাণিজ্যিকে ৩১ টাকা ৮২ পয়সা এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আবাসিকে পানির দাম হচ্ছে ১৮ টাকা ও বাণিজ্যিকে ৩৭ টাকা। ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসায় আবাসিক সংযোগে প্রতি ইউনিট পানির দাম ছিল ৫ টাকা ৪১ পয়সা ও বাণিজ্যিক সংযোগে ১৫ টাকা ৩২ পয়সা।

আবাসিক ও বাণিজ্যিকে পানির দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অনুমোদন চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের পাস-২ শাখা থেকে ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

সিনিয়র সহকারী সচিব এ কে এম সাইফুল আলমের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬ এর ২২ (১) ও ২২ (৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রতি এক হাজার লিটার পানির অভিকর আবাসিক ১৩ দশমিক ০২ টাকার স্থলে ১৮ টাকা এবং অনাবাসিক ৩১ দশমিক ৮২ টাকার স্থলে ৩৭ টাকা নির্ধারণের সরকারি অনুমোদন দেওয়া হলো।

এদিকে, চলতি বছর সাত মাসে দুবার পানির দাম বাড়ানোকে কেন্দ্র করে গ্রাহক ও নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পাঁচলাইশ থানাধীন বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি বছর জানুয়ারিতে একবার পাঁচ শতাংশ করে পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার আগস্টের শুরুতে ১৬ শতাংশ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর কথা শুনছি। এক বছরে দুবার দাম বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক। একসঙ্গে এত দাম বাড়ানোর বিষয়টি আমাদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে। দৈনন্দিন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।’

চট্টগ্রাম ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক এ এস এম শাহেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া প্রজ্ঞাপন পেয়েছি। আগামী মাস থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। তবে এর আগে পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে ওয়াসার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। আগামী বছর থেকে কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে পানির দাম বাড়াতে হয়েছে। বর্তমানে ওয়াসার প্রতি ইউনিট পানির উৎপাদন খরচ প্রায় ২৭ টাকা। এর চেয়েও অনেক কম দামে নগরবাসীর কাছে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন দাম সমন্বয় করে লোকসান কমানোর চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ৭৮ হাজার ৫৪২টি আবাসিক ও সাত হাজার ৭৬৭টি বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে।’

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক আগে মন্ত্রণালয়ে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। এতদিন পর তা অনুমোদন হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী আবাসিকে প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানির দাম ১৩ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ ও বাণিজ্যিকে ৩১ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাস থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।’

তিনি বলেন, ‘ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। ঋণের টাকা আগামী বছর থেকে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।’

ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাত মাসের মধ্যে দুবার পানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক। প্রকল্প নিয়ে নির্ধারিত সময়ে শেষ করবে না, বছর বছর ব্যয় বাড়বে। জনগণকে এর মাশুল গুনতে হবে। প্রকল্পের ঋণের টাকা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক কারণ হতে পারে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে পরিশোধন হয় ৪৫ কোটি লিটার। শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার ফেজ-১ প্রকল্প থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার, শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেজ-২ থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার, শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্প থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার ও গভীর নলকূপ থেকে চার কোটি লিটার পানি পরিশোধন হয়। সবমিলিয়ে, দিনে ৪৫ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাচ্ছে। তবে ৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াসা সূত্র।

/এএম/এফআর/

/এএম/এফআর/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ঘাতক ট্যাংকের পথে আলোর মিছিল
ঘাতক ট্যাংকের পথে আলোর মিছিল
আমার বাড়িতে সিবিআই গেলে কী করবেন, প্রশ্ন মমতার
আমার বাড়িতে সিবিআই গেলে কী করবেন, প্রশ্ন মমতার
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেফতার
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেফতার
এ বিভাগের সর্বশেষ
বাড়ছে যমুনার পানি
বাড়ছে যমুনার পানি
আবারও বাড়ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম
আবারও বাড়ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম
উজানের ঢলে পানি বাড়ায় যমুনা তীরে ভাঙন
উজানের ঢলে পানি বাড়ায় যমুনা তীরে ভাঙন
আবারও বাড়ছে যমুনার পানি
আবারও বাড়ছে যমুনার পানি
শুকিয়ে গেছে সুপেয় পানির পুকুর, ভোগান্তিতে ২ লাখ মানুষ
শুকিয়ে গেছে সুপেয় পানির পুকুর, ভোগান্তিতে ২ লাখ মানুষ