প্রেমের ফাঁদে প্রবাসীদের ডেকে ভিডিও ধারণ, এরপর অর্থ আদায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
১৭ আগস্ট ২০২২, ২১:০৭আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ২১:৩২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবাসীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে এনে মুক্তিপণ আদায়কারী অপহরণ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহর ও শহরতলির বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামের রেনু মুন্সির ছেলে আবদুল আহাদ (৩৪), তার স্ত্রী ববিতা বেগম (৩০), পৌর এলাকার মধ্যপাড়া নয়াপুকুর পাড়ের রবি বাবুর্চির ছেলে সাজন মিয়া (৩১), পৌর এলাকার ভাদুঘরের মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মো. মশিউর রহমান (৪৩), সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের কবির মিয়ার মেয়ে লিপি আক্তার (১৮) ও নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় গ্রামের (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শেরপুর) খায়রুল ইসলামের স্ত্রী জহুরা বেগম (২২)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ নেওয়া ৯ হাজার ৩৫০ টাকা, মুক্তিপণ আদায়ের কাজে ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর করা ৯টি মোবাইল ফোন ও অপহৃত যুবকের কাছ থেকে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সরাইল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বুধবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন।

সেখানে বলা হয়, প্রতারক চক্রের সদস্যরা গত ১৫ আগস্ট বিকালে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের মো. রৌশন আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. শাকিল মিয়াকে (২৫) উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকা থেকে এবং ১৬ আগস্ট দুপুরে অরুয়াইল বাজার এলাকার হাজী কাঞ্চন মিয়ার ছেলে সৌদি প্রবাসী সোরহান মিয়াকে (৩০) প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে অপহরণ করে। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে চক্রের নারী সদস্যরা তাদের নগ্ন করে ছবি তুলে ভিকটিমদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা আদায় করে। এরমধ্যে শাকিলের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ১০ হাজার ও সোরহানের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে তিন দফায় ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

শাকিলের স্বজনেরা অপহরণের বিষয়টি সরাইল থানাকে জানালে পুলিশ মাঠে নামে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় মোবাইল ফোন রেখে শাকিল ও ৪টায় সোহরান মিয়াকে ছেড়ে দেয় তারা। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা ও শহরতলির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন আরও জানান, গত ১০ আগস্ট রাতে একই ধরনের প্রতারক চক্রের আরও তিন সদস্যকে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন, গোকর্ণঘাট এলাকার নাছির মিয়ার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৪), শহরের পশ্চিম মেড্ডার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী শিরিন ইসলাম (৩৫) ও সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের মৃত জুরু মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল মিয়া (৩৫)। ওই ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব অপরাধ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

/এফআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
জর্ডানে ‘সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা’ গুজব: দূতাবাস  
১০ বছর পর এলেন দেশে, বাড়ি ফিরলেন মা-ভাই-বোনসহ লাশ হয়ে
প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেল গঠন
সর্বশেষ খবর
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী