২২ বছর পর বাংলাদেশে বাবার পরিবারের সন্ধান পেলেন পাকিস্তানি তরুণী

ফেনী প্রতিনিধি
১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:১৩আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:২৫

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মুহাম্মদ কাসিম আজাদ ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে মেহবুবা নামে স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেছিলেন। সে ঘরে জন্ম নিয়েছিল একটি কন্যা সন্তান। এরপর দেশে ফিরেছিলেন কাসিম। দেশে আসার পর ২০০৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর পেরিয়ে গেছে দেড় যুগের বেশি সময়। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া কাসিমের মেয়ে তাহরিম রিদাও বেড়ে ওঠেন। কিন্তু বাংলাদেশে বাবার পরিবারের সঙ্গে তার কোনও সংযোগ ছিল না। শুধু জানতে ফেনী জেলায় বাবার বাড়ি। বাবার নাম ও জেলা ছাড়া কিছুই জানতেন না। পিতৃ পরিচয় জানতে খোঁজ চালাতে থাকেন রিদা।

দীর্ঘ ২২ বছর পর বাংলাদেশ বাবার পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন তিনি। পাকিস্তানে অবস্থান করে ফেনীর একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে সংযোগ স্থান হয়েছে বাবার পরিবারের সঙ্গে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৫৭ মিনিটে রিদা তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে একাধিক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেন। সেখানে লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আমি এখানে আমার বাবার পরিবার খুঁজতে এসেছি। আমার বাবা ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান এসে আমার মাকে বিয়ে করেছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের ফেনী থেকে এসেছিলেন। তার নাম ছিল মুহাম্মদ কাসিম আজাদ। আমার দাদার নাম তফাজুল হক। যিনি সম্ভবত আমার পিতার শৈশবে মারা গেছেন।’ 

আরও লেখেন, ‘আমি আমার বাবার পরিবার সম্পর্কে খুব বেশি বা প্রায় কিছুই জানি না। গ্রুপে নিজ চাচার একটি ছবি দিয়ে তিনি বলেন আবু সাদিক আমার বাবার বড় ভাই। যদি কেউ এই পরিবার সম্পর্কে কিছু জানেন তবে আমার পরিবারের আমাকে জানাবেন। আমি তাদেরকে কখনও দেখিনি।’

‘কলেজে বা বাইরে গেলে তার বাবার পরিচয় জানতে অনেকেই বিরক্ত করে। পিতৃপরিচয় না থাকায় অবহেলিত হতে হয়েছে ২২ বছর। তার বাবা পাকিস্তান থাকাকালীন তার মাকে বিয়ে করেন। পাকিস্তানে তার মাকে রেখে দেশে গেলে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর তার পরিবারের সঙ্গে আর পরিচয় হয়নি।’

ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর একটি গ্রুপের মাধ্যমে ফেনীতে বাবার পরিবারের সন্ধান পান রিদা। ওই পোস্টের ২৩ মিনিটের মধ্যে তার বাবার পরিবারের সন্ধান মেলে। জানা যায়, তার বাবার বাড়ি দাগনভূঞার ফাজিলের ঘাটে। পোস্ট দেওয়ার ২৩ মিনিটের মধ্যেই তার ফুফু ও ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়।

আমাদের ফেনীর অ্যাডমিন ইমদাদুল হক বলেন, ‘তাহরিমের বাবা দেশে এসে তার মাকে চিঠি পাঠাতো। চিঠিতে উল্লেখিত ঠিকানা সংগ্রহ করে তাহরিম ফেনী নামক শব্দটি পায়। পরে ফেনী গুগলে সার্চ করে জানতে পারে এটি একটি জেলা। পরে ফেনী সার্চ করে আমাদের ফেনী নামক গ্রুপটি পায়। এরপর যাবতীয় ডিটেইলসসহ ফেসবুকে ইংরেজিতে পোস্ট করেন। এরপর ট্রান্সলেশন করে বাংলায় পোস্ট দেন অ্যাডমিন প্যানেল।’

দাগনভূঞা থানার ওসি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাহরিমের বাবার পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছে যায়। বর্তমানে তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হয়েছে।

পিতৃপরিচয় পেয়ে তাহরিম বলেন, ‘ফেনীর মানুষ কে কী বলে ধন্যবাদ দেবো তা বলার ভাষা আমার নেই। আমাকে যারা খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে সবাইকে আল্লাহ নেক হায়াত দান করুক। খুব শিগগির আপনাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

/এফআর/
সম্পর্কিত
কী, কেন, কীভাবেপাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির কৌশল যেভাবে ‘বুমেরাং’ হলো
চীন-পাকিস্তান দুই ফ্রন্টেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত ভারত: নৌ-প্রধান
‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর জন্য প্রস্তুত ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান
সর্বশেষ খবর
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি