বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে বিজিবির শ্রদ্ধা

রাঙামাটি প্রতিনিধি
১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৪২আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৪২

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কাপ্তাই হ্রদের বুকে শায়িত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে রাঙামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তরিকুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি রাঙামাটি সেক্টরের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শ্রদ্ধা নিদেবন শেষে রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন মুন্সী আব্দুর রউফ। তিনি নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে শুয়ে আছেন। দেশকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক কোম্পানি সৈন্যের সঙ্গে ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফও ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামে। এই বুড়িঘাটের চৌকিতে ন্যস্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। মুন্সী আব্দুর রউফের অসীম সাহস ও বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে শত্রুবাহিনী মহালছড়িতে মুক্তিবাহিনীর মূল অবস্থানের দিকে অগ্রসর হতে পারেনি। তিনি তার জীবন উৎসর্গ করে কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।’

আরও পড়ুন: কাপ্তাই হ্রদের বুকে শায়িত যে বীরশ্রেষ্ঠ

তিনি আরও বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের বীরত্বগাথা এই অর্জন সবার মাঝে তুলে ধরতে হবে। পর্যটকরা এখানে ভ্রমণে আসলে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেস। পাশাপাশি রাঙামাটির প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারবেন।’

কাপ্তাই হ্রদের বুকে শায়িত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি-মহালছড়ি জলপথে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন মুন্সী আব্দুর রউফ। এই জলপথ দিয়ে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর চলাচল প্রতিরোধের দায়িত্ব পড়ে তার কোম্পানির ওপর। কোম্পানিটি বুড়িঘাট এলাকার চেঙ্গিখালের দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গড়ে তোলে।

৮ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর দুই কোম্পানি সৈন্য মর্টার, মেশিনগান ও রাইফেল নিয়ে বুড়িঘাটের মুক্তিবাহিনীর নতুন প্রতিরক্ষা ঘাঁটি ধ্বংস করতে সাতটি স্পিডবোট এবং দুটি লঞ্চ নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে। এটি ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় কমান্ডো ব্যাটালিয়নের (এসএসজি) কোম্পানি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছেই পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ শুরু করে। স্পিডবোট থেকে মেশিনগানের গুলি এবং আর লঞ্চ দুটি থেকে তিন ইঞ্চি মর্টারের শেল নিক্ষেপ করছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে। পাকিস্তানি বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিলো রাঙামাটি-মহালছড়ির জলপথ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পিছু হটিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা।

বীর মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিখায় অবস্থান নিয়ে নেন। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাগুলির তীব্রতায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে যায়। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে ফেলে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে আব্দুর রউফ বুঝতে পারেন এভাবে চলতে থাকলে ঘাঁটির সবাই প্রাণ হারাবেন। তখন কৌশলগত কারণে পশ্চাৎপসরণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত সৈন্যদের জানানো হলে সৈন্যরা পিছু হটতে শুরু করেন। 

 বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ

এদিকে পাকিস্তানি বাহিনী তখন খুব কাছে চলে আসে। ফলে একযোগে পিছু হটতে থাকলে একসঙ্গে সবাই মৃত্যুবরণ করতে হতে পারে ভেবে আব্দুর রউফ পিছু হটেননি। সহযোদ্ধাদের পিছু হটার সুযোগ করে দিতে নিজে পরিখায় দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকেন তিনি। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে একা কৌশলে লড়ছিলেন। তিনি তাদের সাতটি স্পিডবোট একে একে ডুবিয়ে দিলে তারা তাদের দুটি লঞ্চ নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

লঞ্চ দুটো পিছু হটে রউফের মেশিনগানের গুলির আওতার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি বাহিনী এরপর লঞ্চ থেকে মর্টারের গোলাবর্ষণ শুরু করে। মর্টারের গোলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা রউফের একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবু তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। হঠাৎ একটি মর্টারের গোলা তার বাঙ্কারে এসে পড়ে এবং তিনি শহীদ হন। কিন্তু তার মৃত্যুর আগে সহযোগী যোদ্ধারা সবাই নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে যেতে পেরেছিলেন। সেদিন আব্দুর রউফের আত্মত্যাগে তার কোম্পানির প্রায় ১৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে যান।

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
নোয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনমুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে গণঅভ্যুত্থান হবে, রাজাকারদের পাকিস্তানে পাঠানো হবে
মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ
সর্বশেষ খবর
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের