লক্ষ্মীপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে বৃদ্ধ দম্পতির লাশ উদ্ধারের তিন মাস পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িত ছয় জনকে গ্রেফতারের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মা. মাহফুজ্জামান আশরাফ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—কামরুল হাসান, রুবেল, জুয়েল, কাউছার হাসান, আবুল কাশেম খােকন ওরফে দুদু মিয়া ও বাহার। তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর গ্রামে।
হত্যার শিকার দম্পতি হলেন—শাকচর গ্রামের ছৈই মিঝি বাড়ির বাসিন্দা আবু ছিদ্দিক (৭৩) ও তার স্ত্রী আতরুন নেছা (৬৫)। গত ১৭ অক্টোবর রাত ৯টায় ঘরের দরজা ভেঙে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: তালাবদ্ধ ঘরে বৃদ্ধ দম্পতির লাশ, পুলিশ বলছে হত্যা
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতার কামরুল হাসান ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি। শাকচর গ্রামের কাচারিবাড়ি এলাকায় তার একটি দােকান আছে। কামরুলের সঙ্গে তার বন্ধু জুয়েল, বাহার, রুবেল ও কাউছার আড্ডা দিতো। একই সঙ্গে কামরুলের বাড়ির পাশের ছইমিঝি বাড়ির দুদু মিয়াও আড্ডা দিতেন। কাচারিবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন বৃদ্ধ দম্পতি আবু ছিদ্দিক ও আতরুন নেছা বসবাস করতেন।
আবু ছিদ্দিকের কাছ থেকে কিছু সম্পত্তি ক্রয় করেন দুদু মিয়ার ভাতিজা গিয়াস। কামরুল হাসান ও তার বন্ধুদের দুদু মিয়া তথ্য দেন, ছিদ্দিকের বাড়িতে কিছু টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যাবে। এই খবর পেয়ে কামরুল, রুবল ও বাহার ওই বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢোকে। এ সময় দুদুর সঙ্গে কামরুলের মোবাইল ফোনে কথা হয়। পরে তারা ছিদ্দিক ও আতরুন নেছার হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খাট ভেঙে যায়। তারা আলমারি ভেঙে কিছু না পেয়ে তাদের কাছে জানতে চায়, টাকা-পয়সা কোথায় রেখেছে। কিন্তু বৃদ্ধ দম্পতির সাড়া না পেয়ে তারা ভাবে মারা গেছেন। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার একদিন পর দুদু মিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাচনা করে তারা। তাদের চুপ থাকতে বলেন দুদু মিয়া। দুই দিন পর বিষয়টি জানাজানির হলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তাদের বন্ধু জুয়েল ও কাউছার টাকার ভাগ চায়। ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে বাগবিতণ্ডা হয়। এই বাগবিতণ্ডার অডিও রেকর্ড সোর্চের মাধ্যমে পুলিশের হাতে আসে। এরপর হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মা. মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, সোমবার (০৯ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শহরের মাদাম এলাকা থেকে কামরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠালে সব ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এরপর পুলিশ অন্যদের গ্রেফতার করে।








