চট্টগ্রামে রোহিঙ্গাদের জন্য জালিয়াতি করে বানানো পাঁচটি মেশিন রিডেবল পাসপোর্টসহ (এমআরপি) ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর মধ্যে জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্য রোহিঙ্গা।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে গরীবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকা থেকে দুই রোহিঙ্গাসহ পারভেজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা যাচ্ছিল। তাদের দেওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে বাকি তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দুজন ট্রাভেল এজেন্সির মালিক।
গ্রেফতার দুই রোহিঙ্গা নাগরিক হলেন জাবের ও রাজি আলম। বাকি চার জন হলেন খসরু পারভেজ, তসলিম, ইসমাইল ও ফারুক।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) নিহাদ আদনান তাইয়ান। দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে রোহিঙ্গা নাগরিক আসাদ উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা রয়েছে। সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। আসাদ উল্লাহ কক্সবাজারের উখিয়ার ১৪ নম্বর ব্লকের ২৯৫ নম্বর ঘরে বসবাস করতেন। এ ঘটনায় তাকে পাসপোর্ট করে দেওয়া চক্রের সন্ধান শুরু হয়। এরপর চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।’
এই চক্রটি চার-পাঁচ মাস ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছে জানিয়ে নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ‘প্রতি মাসে ১০-১২টি পাসপোর্ট করছে চক্রটি। তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা চুক্তিতে চক্রটি রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করা থেকে সৌদি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। উদ্ধার হওয়া পাসপোর্টগুলোর মধ্যে চারটিতে নারায়ণগঞ্জের ঠিকানা, অন্য একটিতে চট্টগ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।’
কীভাবে চক্রটি পাসপোর্ট করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা বলছে ঢাকা পাসপোর্ট অফিসের সামনে তাদের লোক আছে। আমরা এখনও যাচাই করিনি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আগে গ্রেফতার হওয়া আসাদ উল্লাহকেও এই মামলায় আসামি করা হবে।’
আসাদ উল্লাহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজেকে আরসার নেতা পরিচয় দিতো বলে আমরা তথ্য পেয়েছি উল্লেখ করে নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ‘আসাদ আরসা নেতা পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। তবে আসাদ আরসার কোন পর্যায়ের নেতা, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। এছাড়া আসাদ কী কারণে জেদ্দায় যাচ্ছিলেন, তাও তদন্ত করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসাদকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের একটি মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। ওই মোবাইল নম্বরের লোক তাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছিল বলে জানান। ওই নম্বরের সূত্র ধরে খুলশী থানার গরীবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকার শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের সামনে থেকে পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা দুই রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেফতার করা হয়।’









