এবার আড়তদাররা বললেন, বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন চাষিরা

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম
২১ মে ২০২৩, ০০:০১আপডেট : ২১ মে ২০২৩, ০০:০১

দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তে অস্থির পেঁয়াজের দাম। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্রতিদিন দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় আড়তদাররা বললেন, বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন চাষিরা। এ জন্য বাজারে দাম বেশি।

গত ৮ মে যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৫০-৫৫ এবং খুচরা বাজারে ৬০-৬৫ টাকা বিক্রি হয়েছিল। ১২ দিনের ব্যবধানে শনিবার (২০ মে) পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ ও খুচরা বাজারে ৮৫-৯০ টাকা।

ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। এরপরও প্রতিদিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। চাকতাই-খাতুনগঞ্জে দৈনিক ১৫-২০ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকছে। প্রতিটি ট্রাকে ১৫ টনের কমবেশি আছে। আগেও একই পরিমাণ আসতো।

একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম এমনটি জানিয়েছেন চাকতাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দেশের চাষিরা যাতে উপযুক্ত দাম পান, সে জন্য গত দুই মাস ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। এ সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও চাষিরা। পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর থেকে পেঁয়াজ আনা হয়। সেখানে প্রতি কেজি ৬৮-৭০ কিনতে হয় আড়তদারদের। এর সঙ্গে গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মিলে কেজিতে আরও চার-পাঁচ খরচ পড়ে। ফলে এখানে ৭৫-৮০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে।’

একই কথা বলেছেন খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘বাজার অস্থির। প্রতিদিন দাম বাড়ছে। আমরা যেখান থেকে পেঁয়াজ কিনি সেখানেই দাম বেশি। ব্যবসায়ীদের কাছে নয়, চাষিদের কাছেই আছে পেঁয়াজ। অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা মজুত করার সাহস পাচ্ছেন না। চাষিরা বেশি দামে বিক্রি করছেন। অথচ চাষিরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছেন দাম ৫০ টাকার মধ্যে রাখবেন। কিন্তু সে কথা কথা রাখেননি চাষিরা।’

তবে পাবনার পেঁয়াজ চাষি মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতি কেজি ৫০-৫৫ টাকা বিক্রি করছি। অধিকাংশ চাষি আগেই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন আমাদের কাছে মজুত নেই। কাজেই বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।’

বাজার তদারকি না থাকায় প্রতিদিন দাম বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোজার ঈদের আগেও ৩০-৩৫ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছি। বর্তমানে ১০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশে প্রচুর উৎপাদন হয়েছে। এত টাকা বাড়ার কোনও কারণ নেই। বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।’

/এএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের