কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হককে হত্যার ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ মে) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় এখন পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতকাল গ্রেফতার দুজন হলেন- মামলার দুই ও তিন নম্বর আসামি কাজী আমান উল্লাহ ও আবু সাইদ। এর আগের রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে সাত ও দশ নম্বর আসামি কাজী নিজাম উদ্দিন ও জাকির হোসেনকে।
রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল মান্নান জানান, গত ইউপি নির্বাচন ও মসজিদ কমিটিসহ নানান বিষয়ে আসামিদের সঙ্গে বিরোধ ছিল নিহত আওয়ামী লীগ নেতা এনামুলের। মামলার এক নম্বর আসামি জহিরের ফেনসিডিল সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওটি এনামুলও শেয়ার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন জহির, আমানসহ আরও কয়েকজন। গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সন্তানের সামনে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে গলা কেটে তাকে হত্যা করে আসামিরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবদুল অদুদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, শনিবার খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি থানার লৌহজং ও কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইস গিয়ার ছুরিটি জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) খন্দকার আশফাকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) কামরান হোসেন, গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাজেস বড়ুয়া ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ।
এর আগে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় সন্তানের সামনে গলা কেটে হত্যা করা হয় এনামুল হককে। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।









