ব্যাংক থেকে ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দুবাইয়ে অবস্থান, ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
২১ মে ২০২৩, ২৩:০৭আপডেট : ২৪ মে ২০২৩, ১৭:৫৩

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের দেড় হাজার কোটি টাকা না দিয়ে দুবাইয়ে পাড়ি জমানো ইমাম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী জেবুন্নেছা আক্তারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। পুলিশের আইজি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সোনালী ব্যাংকের পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ১৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯০ টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে সোনালী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার পক্ষ থেকে ২০১২ সালে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। মামলার রায় প্রকাশের পর টাকা আদায়ে ২০২২ সালের ২ নভেম্বর একই আদালতে জারি মামলা করা হয়। মামলায় আসামি করা হয় ইমাম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী এবং তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জেবুন্নেছা আক্তার ও তার মা পরিচালক হামিদা বেগমকে।

ঋণের বিপরীতে কোনও স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক বা সহায়ক আমানত ছিল না। তাই দায় সমন্বয়ের জন্য নিলাম কার্যক্রম নিতে পারেনি ব্যাংক। তবে ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সম্পত্তি ক্রোক করা হলেও তা পূর্বে অন্য ব্যাংকের কাছে বন্ধক থাকায় নিলামে বিক্রি সম্ভব হয়নি। এ কারণে অর্থঋণ আইনের ৩৪(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আটকাদেশসহ ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়।

এই দম্পতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। দেশের অর্থপাচার করে দুবাইয়ে নানাবিধ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে অন্তত ১৫টি খেলাপি ঋণের মামলা চলমান আছে। যেখানে ব্যাংকগুলোর দাবি করা ঋণের পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকা।

মামলার আদেশে বলা হয়, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়েও ব্যাংকগুলো তাদের কাছ থেকে কিছুই আদায় করতে পারেনি। দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচার করার মাধ্যমে এই ঋণ খেলাপিরা রাষ্ট্রের ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘ এক যুগ ধরেও এই শীর্ষ ঋণ খেলাপিরা কোনও টাকা পরিশোধ না করার কারণে ব্যাংকও বিনিয়োগখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নাগরিকদের আমানতের ঋণের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় দুষ্কৃতিকারী বিদেশে পাচার করে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের আটকাদেশ দেওয়া হলো।

আদালতের বেঞ্চসহকারী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘তারা দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তাদের কাছে সোনালী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ১৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯০ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। পুলিশের আইজি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তাদেরকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’

/এফআর/
সম্পর্কিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে এক মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড
সরকার পরিবর্তনে আশা ছিল দাম বাড়বে, কিন্তু এবারও সেই সিন্ডিকেট
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী