বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকার থাকলে আওয়ামী লীগের ভাত নেই। সবাইকে বোকা বানিয়ে বিচার ব্যবস্থার ওপর জোর খাটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বাতিল করা হয়েছে। তারা এখন বলে বেড়াচ্ছে- আওয়ামী লীগের অধীনে নাকি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সবাই যেন নির্বাচনে অংশ নেয়। এ যেন ভুতের মুখে রাম নাম। আসলে আওয়ামী লীগের চরিত্রই ভালো না। আর নির্বাচন কমিশন হচ্ছে একটা ঠুঁটো জগন্নাথ, তাদের কোনও ক্ষমতা নেই। আওয়ামী লীগ যা বলে তারা তা বাস্তবায়ন করে।’
রবিবার (১৬ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিকদল আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর কাজীর দেউরীর দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে নুর আহমেদ সড়কে এ মহাসমাবেশ হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ ভোট দিলে সেই ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে, সেই প্রতিনিধি পার্লামেন্টে যাবে, পার্লামেন্টে গিয়ে আইন তৈরি করবে যে কীভাবে সরকার গঠন করবে। এ জন্যই বলা হয় এটা গণতন্ত্র, এ জন্যই বলা হয় পার্লামেন্টে নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পদযাত্রা, মহান দরজা বলা হয়। সেই দরজাটা এরা (আওয়ামী লীগ) বন্ধ করে দিয়েছে। সেই নির্বাচন আর হয় না।’
তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকারকে প্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান করেছিলেন। সেদিন নতুন সংসদ গঠন করে, সেই সংসদে সারা রাত ধরে সেশন করে আমরা সবাই সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান করেছিলাম। কেন করেছি? যদি নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকার থাকে, যে কোনও দল করে না, তখন জনগণ নিজের ইচ্ছায় ভোটটা দিতে পারবে। ভোটের পর সাধারণ মানুষ কি পাঁচ বছর ধরে সরকার চালায়? জনগণ একটা দিন এ দেশের মালিক। সেটা হচ্ছে নির্বাচনের দিন।’
ফখরুল বলেন, ‘মানুষ আর ভোট দিতে যেতে চায় না। কারণ ভোট দিতে হয় না তো যাবে কেন, ভোট হয়? আবার বলে তাদের অধীনেই সুষ্ঠু ভোট হয়। মানুষ হাসবে না কাঁদবে? ভূতের মুখে রাম নাম। ন্যাড়া বারবার বেলগাছ তলায় যায়? আমরা কি বারবার এই নির্বাচনে যাবো? মোটেই না।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা আবার আমাদের নির্বাচনে নিতে চায়। বোঝাতে চায় সারা দুনিয়াকে দেখো আমি কত ভালো হয়ে গেছি। কিছুদিন আগে যে বিদেশিরা আসছিল, সেই বিদেশিদের দেখায়, দেখো আমি কত ভালো, আমরা বিরোধীদলকে সভা করতে দিই, মিটিং করতে দিই, তাদের বাধা দিই না। যে-ই সময় আসে, টপ করে ধরে ফেলবে।’
তিনি বলেন, ‘এখনও সময় আছে মানে মানে সরে যান। তা না হলে জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আপনাদের সরিয়ে দিতে বাধ্য হবে। বন্দুক দিয়ে, হুমকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে আর কাজ হবে না। অনেক অপরাধ করেছেন, জুডিশিয়াল কিলিং করেছেন, এক লাখ ২৪ হাজার মামলা দিয়ে ৪০ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করেছেন। আমরা যুদ্ধ করেছিলাম একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক দেশ নির্মাণের জন্য। যেখানে ন্যায়বিচার থাকবে এবং ভোটাধিকার থাকবে।’
ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতার মসনদ কারও জন্য স্থায়ী নয়, মানে মানে সরে পড়েন। আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটি বক ধার্মিক দল। বক যেমন পুকুর জলাশয়ের ধারে এক পায়ে বসে থাকে মাছ ধরার জন্য, তারাও (আওয়ামী লীগ) সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে ঘরে ঘরে বেকার বেড়েছে, চাউলের কেজি ৯০ টাকা হয়েছে। এ সরকার যতদিন থাকবে মানুষের দুর্ভোগ তত বাড়বে। তাই ভালো ভালোই পদত্যাগ করে মানুষকে মুক্তি দিন, না হয় জনগণ তাদের হারানো ভোটাধিকার আদায় করে নিতে বাধ্য হবে।’
কর্ণফুলী টানেল প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনাদের এখানে একটা টানেল হচ্ছে। কয়েকদিন পর সেটি উদ্বোধন করা হবে। আমরাও খুব খুশি। কারণ পৃথিবীর খুব কম দেশে টানেল হয়েছে। টানেল হওয়াতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমাদের আপত্তি অন্য জায়গায়। আজকে জনগণ ১০ টাকায় চাল খেতে পারছেন না, অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য কোনও হাসপাতাল নির্মাণ হয় না। সরকার আমাদের দেখাক, গত ১৫ বছরে জনগণের জন্য কয়টা হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। একটাও দেখাতে পারবেন না। সাধারণ মানুষের লেখাপড়ার জন্য স্কুল-কলেজ তৈরি করেনি। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি।’
তিনি আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আর কোনও সময় নেই, তাদের সময় শেষ। আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি। আবারও বলছি, ভালো ভালোয় পদত্যাগ করেন, সংসদ ভেঙে দিন।’
দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসেনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর প্রমুখ।








