টেকনাফে খাল দখল করে মাছের প্রজেক্ট প্রভাবশালীদের

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:৩০আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৫

কক্সবাজারের টেকনাফে সরকারি খাল দখল করে মাছের প্রজেক্ট তৈরির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ও হারিয়াখালীর মধ্যবর্তী বড়খালের একটি অংশ বাঁধ দিয়ে দখলে নেয় প্রভাবশালী মহল। যারা খাল নির্ভর উপার্জন তাদের চরম কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইরফানুল হক চৌধুরী বলেছেন, খাল দখল করে বাঁধ দিয়ে  মাছের প্রজেক্ট করার তথ্য আমার কাছে জানা ছিল না। কেউ এ বিষয়ে জানায়নি। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাল সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নাফনদ থেকে উৎপত্তি হয়ে যে খাল পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের বেড়িবাঁধ এবং মাঝখান দিয়ে উত্তরে হারিয়াখালীর কাছাকাছি বিস্তৃত সেটি উপজেলার সবচেয়ে বড়। স্থানীয়দের কাছে এটি বড়খাল নামে পরিচিত। এই খালে হারিয়াখালী ও শাহপরীর দ্বীপের গরীব-অসহায় লোকজন মাছ শিকার করে পরিবারের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সম্প্রতি খালটির মাঝখান দিয়ে উত্তরে হারিয়াখালীর দিকে যে অংশটি প্রবাহিত হয়েছে সে অংশটি বাঁধ দিয়ে মাছের প্রজেক্ট করেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে পড়েছে খাল নির্ভর গরিব জেলেদের।

স্থানীয়রা জানান, বেশিরভাগ লোকে এই খালে ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরতেন। গরিব মানুষগুলো খালে মাছ ধরে দু'বেলা আহার করছে তা অনেকের সহ্য হচ্ছে না। যার কারণে গরিবের রুটি রুজির খালটি বাঁধ দিয়ে প্রজেক্ট করে গরিব মানুষগুলোর মাছ ধরার সুযোগও বন্ধ। এটি খাল নির্ভর জেলেদের পেটে লাথি মারার মতো।' 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানেন না প্রকৃতপক্ষে এ খালটি কারা দখল করেছে।  শাহপরীর দ্বীপ উত্তর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেছেন, এক সময় এই খালটি অনেক বড় ছিল। আমরা ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরতাম। পরিবারের মাছের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় করতে পারতাম। এভাবে শতাধিক গরীব মানুষ এ খালে রোজগার করতেন। এখন দেখি একটি মহল খালের বড় একটি অংশ বাঁধ দিয়ে প্রজেক্ট তৈরি করেছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ সেখানে মাছ ধরতে পারছে না।

সাবরাং হারিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমাদের বাবা চাচারা এই খালে জাল ফেলে মাছ ধরতেন। এটি আমরা সরকারি খাল নামে জানতাম।  এখন দেখছি খালে বাঁধ দিয়ে ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর মালিকানায় নেয়া হয়েছে খালটি।

সাবরাং ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার কবির আহমদ বলেছেন, এলাকার কিছু ছেলে মিলে প্রজেক্টটি করেছে বলে শুনেছি। আগেও চেয়ারম্যান সহ খাল দখলমুক্ত করতে কাজ করেছি। আমিও চাই খাল সবার জন্য উন্মুক্ত হোক।

/এলকে/
সম্পর্কিত
লেবাননের ঐতিহাসিক বেউফোর্ট দুর্গ দখলের দাবি ইসরায়েলের
কাদের দখলে সড়ক-ফুটপাত, কারা তোলে চাঁদা?
ক্ষমতার দাপটে জমি দখলের চেষ্টা, নিরাপত্তা চাইলো ভুক্তভোগী পরিবার
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম