২০২৩ সালে চট্টগ্রামে কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন ১১৮ শ্রমিক। আহত হয়েছেন ১১১ জন। এর মধ্যে শুধু জাহাজ ভাঙা শিল্পে মারা গেছেন সাত জন ও আহত হয়েছেন ৩০ জন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে, ২০২২ সালে চট্টগ্রামে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক মারা গেছেন ২৩৮ জন। এর মধ্যে ওই বছরের ৪ জুন সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা ভয়াবহ আগুন ও কেমিক্যাল বিস্ফোরণে মারা গেছেন ৫১ জন। এ দুর্ঘটনায় আহত হন কমপক্ষে দুই শতাধিক শ্রমিক।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ডিটিডিএ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০২৩ সালে চট্টগ্রামে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক মারা গেছেন ১১৮ জন। এর মধ্যে নির্মাণ শ্রমিক ৩৩, পরিবহন শ্রমিক ২৪, কৃষক ১১, জাহাজ ভাঙা শিল্পের ৭, অক্সিজেন কারখানার ৬, মৎস্যজীবী ৪, দোকান কর্মচারী ৩, এনজিওকর্মী ৩, নিরাপত্তাকর্মী ৩, গৃহশ্রমিক ২, ইপিজেডে ২, চা শ্রমিক ২, স্টিল মিলে শ্রমিক ১, কাগজ কারখানার শ্রমিক ১, জেটি শ্রমিক ১, পোশাক শ্রমিক ১ ও অন্যান্য পেশার শ্রমিক ১১ জন মারা গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘একই বছরে ১১১ জন শ্রমিক আহত হন। এর মধ্যে- ১০৬ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী।’
এ প্রসঙ্গে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ ভাঙা শিল্পে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এখনও এ খাতে সরকার ঘোষিত মজুরি শ্রমিকদের দেওয়া হয় না। এখানে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাসে ১৬ হাজার টাকা করার কথা। কিন্তু শিপইয়ার্ড মালিকরা তা মানছেন না। যাকে যেভাবে পারে সেভাবে দিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে না নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে একসময় ১৪৫টি ছোট-বড় ইয়ার্ড ছিল। বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০টি ইয়ার্ড চালু আছে। এগুলো কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত। গত বছর ৭ জন শ্রমিক মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন। এ খাতের শ্রমিকরা মারা গেলে পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে ৭ লাখ টাকা। আহত হয়ে পঙ্গু হলে দেওয়া হয় আড়াই লাখ টাকা।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ডিটিডিএ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রতি বছর এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়। খুবই সতর্কভাবে আমরা এ রিপোর্ট তৈরি করে থাকি।’







