X
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
১ শ্রাবণ ১৪৩১
বাজেট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার যখন বাড়ে, বুঝতে হবে ব্যবসা ভালো চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০৭ জুন ২০২৪, ২৩:০৬আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪, ২৩:০৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সংসদে ৭ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘোষণা হয়েছে। গত ১৫ বছরে বাজেটের অঙ্ক সাড়ে ১১ গুণ বেড়েছে। কোনও একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার যখন বৃদ্ধি পায়, মানে সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভালো চলছে। তেমনি দেশের বাজেটের আকার যখন বাড়ে, তখন বুঝতে হবে দেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাজেট ঘোষণার আগেই বিবৃতি রেডি করে রাখে। গত ১৫ বছরের তাদের বিবৃতি-বক্তব্য যদি দেখেন, তখন হুবহু মিল খুঁজে পাবেন।

শনিবার (৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাঙালির মুক্তি সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস স্মরণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ-বাঁটোয়ারার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ যারা বিএনপি দল গঠন করেছিলেন, ওয়ান/ইলেভেন-পরবর্তী দুই বছর ও একাধারে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের চার মেয়াদসহ ২২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা তাদের পক্ষে এখন আর সহ্য হচ্ছে না। এমনকি তারা সরকারের কোনও উন্নয়ন-অগ্রগতিও সহ্য করতে পারছে না। সে কারণে তারা এখন নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পূর্ব বাংলার মানুষকে স্বাধীনতার পক্ষে তৈরি করার জন্যই বঙ্গবন্ধু ছয় দফা ঘোষণা করেছিলেন। মানুষও তাতে ব্যাপক সাড়া দেয়। বঙ্গবন্ধু ছয় দফা নিয়ে যেখানেই বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানেই গ্রেফতার হয়েছেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন। মুক্তি পাওয়ার পর আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেন বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তিনি বলেন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পর ছয় দফার ওপর ভিত্তি করেই দেশে সাধারণ নির্বাচন হয়। জনগণ ছয় দফার পক্ষেই ভোট দেয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেমব্লিতে মেজরিটি পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। এরপর ক্ষমতা হস্তান্তরে যখন বাহানা করা হচ্ছিল, তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ছয় দফা যখন ঘোষণা করেছিলাম, তখন এটি আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ মুজিবের দফা ছিল, নির্বাচনের পর এটি জনগণের দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণই ছয় দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি ছয় দফার বাইরে কোনও আপস করতে পারবো না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আপস করলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নয়, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি। সে কারণে প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যেই এগিয়ে যান। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর এক বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করেন যে পাকিস্তান রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে বাঙালিদের মুক্তি নিহিত নেই। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের বক্তব্যে তিনি পক্ষান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্বের ২৭টি দেশকে পেছনে ফেলে বর্তমানে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৩৩তম অর্থনীতির দেশ, ১৫বছর আগে ছিল পৃথিবীর ৬০তম অর্থনীতির দেশ। এই ২৭ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরও আছে। জিডিপির আকারে আমরা তাদেরও অতিক্রম করেছি। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, চিন্তা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণেই এগুলো সম্ভব হয়েছে। 

তিনি বলেন, ২০১৪ ও ১৮ সালে সংকট তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪ সালেও সংকট তৈরির অপচেষ্টা ছিল। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে শেখ হাসিনার কারণে আওয়ামী লীগ পরপর চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায়। বিরোধী শক্তি শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সে কারণে তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেচে নিয়েছে। এ জন্য আওয়ামী লীগের সব স্তরের নেতাকর্মীদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।

দেশে বুদ্ধিজীবী কয়েক প্রকার উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটা হচ্ছে সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ, আরেকটা হচ্ছে বিশেষ কারণে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, আরেকটা হচ্ছে সব বিষয়ে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ। কেউ পড়েছেন আইন, তিনি অর্থনীতি কিংবা পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, কেউ পড়েছেন অর্থনীতি, তিনি আবার তেল-গ্যাসের বিশেষজ্ঞ। এই কদিন দেখবেন এই বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে টেলিভিশনের পর্দা গরম হয়ে যাচ্ছে। তারা এবং বিএনপি-জামায়াত বলতে শুরু করেছে এই বাজেট জনগণের কোনও কল্যাণে আসবে না। 

বিএনপি-জামায়াত ও কতিপয় বুদ্ধিজীবীর প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাজেট জনগণের কল্যাণে যদি না আসে, তাহলে গত ১৫ বছরে দারিদ্র্য ৪০ শতাংশ থেকে নেমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে কীভাবে এলো? আর অতিদারিদ্র্য ২২ শতাংশ ছিল, সেখান থেকে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে কীভাবে নেমে এসেছে? এটি সম্ভব হয়েছে বাজেট বাস্তবায়নের কারণেই। এরা আসলে চোখ থাকতেও অন্ধ কান থাকতেও বধির। ওদের চোখ ও কান যেন আল্লাহ ঠিক করে দেন, সেই প্রার্থনা করি।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি নোমান আল মাহমুদ, কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু প্রমুখ।

/এনএআর/
সম্পর্কিত
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে: ওবায়দুল কাদের
মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সময়োপযোগী: টিআইবি
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডিবি
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডিবি
রোকেয়া হল ছাত্রলীগের নেত্রীর কক্ষে হামলা, মারধর
রোকেয়া হল ছাত্রলীগের নেত্রীর কক্ষে হামলা, মারধর
‘শূন্য’ রানে আউট হৃদয়, ছিটকে গেলো ডাম্বুলা
‘শূন্য’ রানে আউট হৃদয়, ছিটকে গেলো ডাম্বুলা
জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে
জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে
সর্বাধিক পঠিত
মেট্রো স্টেশনে সংঘর্ষ!
মেট্রো স্টেশনে সংঘর্ষ!
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
ঢাবিতে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগের হিড়িক
ঢাবিতে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগের হিড়িক
ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেতা, লিখলেন ‘আর পারলাম না’
ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেতা, লিখলেন ‘আর পারলাম না’
কোটা আন্দোলনে কে এই অস্ত্রধারী!
কোটা আন্দোলনে কে এই অস্ত্রধারী!