ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ, সাইদুর রহমান, জকির হোসেন শাকিল ও সবুজের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দাফনের এক মাসেরও বেশি সময় পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের কালীরহাট গ্রাম থেকে আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তে জন্য ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের ও দুপুর ১২টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার ফাজিলপুর কলাতলী এলাকা থেকে সাইদুল ইসলাম সাঈদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শ্রাবণের মরদেহ উত্তোলনকালে ফেনী জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবদুর রহমান এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানা পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সাঈদের মরদেহ উত্তোলনকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ ও ফেনী মডেল থানা পুলিশের এসআই) মো. আলামিন উপস্থিত ছিলেন। নিহত সাইদ ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।
গত ১৬ আগস্ট মহিপালে নিহত শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের মা ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে ১৫০ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত শ্রাবণ ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের নেছার আহমেদের একমাত্র ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ফেনী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করতেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত জাকির হোসেন শাকিল ও মো. সবুজের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দাফনের ৩৬ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফেনীর সোনাগাজী ও লক্ষ্মীপুর থেকে তাদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে সোনাগাজী উপজেলার মান্দারী গ্রাম থেকে শাকিলের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানা পুলিশের এসআই এম. ইরফান উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুপুর ১টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী এলাকা থেকে মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত অটোরিকশাচালক সবুজের মরদেহ উত্তোলন করা হয়ে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় রামগতি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আবদুল্লাহ-বিন-শফিক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানা পুলিশের এসআই কমল কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট সরকার পতন আন্দোলনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। একইসময়ে শহরের ট্রাংক রোডে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টার দিকে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মহিপাল ফ্লাইওভারের দিকে এগোতে থাকলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মুহুর্মুহু গুলি, ককটেল বিস্ফোরণে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত থেমে থেমে সেখানে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মহিপালের পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও ইটপাটকেলের আঘাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাংবাদিকসহ দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় ৯ জন নিহত হন।









