ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া ডিবি পরিচয়ে লোকমান হোসেন (৪৪) নামে এক আইনজীবীকে মাইক্রোবাসযোগে অপহরণের চেষ্টাকালে তিন যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে জানা যায় তাদের পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী আইনজীবীর ছোট ভাই। রবিবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে সদর মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলায় সাত জনের নাম উল্লেখ করে একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন মো. আশিক (২৫), মো. সফিক (২৬), নাজিবুর রহমান সানি (২৭), মো. খান জাহান আলী রমজান, প্রমোদ বর্মা (৪৫), দ্বীন ইসলাম (২৫), মো. শাওনসহ (২৮) অজ্ঞাত আরও একজন। এর মধ্যে আশিক, সফিক ও নাজিবুর রহমান সানিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ৯টার দিকে নাটাই উত্তর ইউনিয়নের আইনজীবী মো. লোকমান হোসেনের বাড়িতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাত জন ব্যক্তি যান। তারা গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামি হিসেবে লোকমান হোসেনকে নিতে এসেছেন বলে জানান। পরিচয় ও গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ দেখাতে বললে জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এ সময় চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিন যুবককে আটক করা হয়। বাকি চার জন পালিয়ে যান। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চালকও পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা আটককৃতদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, লোকমান হোসেনের ছোট ভাই খান জাহান আলী রমজান তাদের টাকা দিয়ে ভাড়া করে অপহরণ করার জন্য পাঠিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ আটকদের থানায় নিয়ে যায় এবং তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করে। এ ঘটনায় সোমবার লোকমান হোসেন বাদী হয়ে তার ভাই খান জাহান আলীসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার বাদী লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই খান জাহান আলীর সঙ্গে পারিবারিক জমি নিয়ে ঝামেলা চলছে। সেই ঝামেলায় টিকতে না পেরে রিহ্যাব সেন্টারের কিছু লোকজন ভাড়া করে ডিবি সাজিয়ে পাঠিয়েছে আমাকে অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করতে। রবিবার রাতে সাত জন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আমার বাড়িতে ঢুকে গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামি বলে জোর করে তুলে নিতে চাইছিল এবং মারধর করেছিল। চিৎকার করলে তাদের আটক করে আমাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় মামলা করেছি আমরা।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আটক তিন যুবককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করে স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’









