চট্টগ্রামে করোনার সংক্রমণ বাড়লেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম
২০ জুন ২০২৫, ১২:২৭আপডেট : ২০ জুন ২০২৫, ১২:২৭

চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। গণপরিবহন, বাজার, শপিং মল, কলকারখানা, অফিস কিংবা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা হাত ধোয়ার মতো ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। অথচ চট্টগ্রামে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

গণপরিবহণগুলোতে এখনও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

নগরীর বহদ্দারহাট, নিউমার্কেট, চকবাজার, মুরাদপুর, জিইসিমোড় ও অলংকার মোড় এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ লোকজন মাস্কবিহীন। গণপরিবহনের বেশিরভাগ যাত্রীরাও মাস্ক পড়ছেন না। মাস্ক পরা বাধ্য করতে আইন প্রয়েগকারী সংস্থার পক্ষ থেকেও কোনও কঠোরতা দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে করোনা সংক্রমণ এড়াতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এসব নিয়ম মানছে না কেউ। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- বারবার প্রয়োজনমত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার, আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে থাকা, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ না করা এবং হাঁচি-কাশির সময় বাহু/টিস্যু/কাপড় দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনা থেকে রক্ষায় অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে এবং বারবার প্রয়োজনমতো সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।’

গত মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মেয়র বলেন, ‘করোনার ক্ষেত্রে সচেতনতা সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধুতে হবে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ছোঁয়াচে এই ভাইরাস মোকাবিলায় আমাদের আগেই প্রস্তুত থাকতে হবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি সার্ভিস সেন্টার চালুর ঘোষণাও দেন মেয়র, যেখানে নাগরিকরা ফোন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘করোনা চিকিৎসা এবং করোনা শনাক্তে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যল কলেজ হাসপাতাল, বিআইটিআইডি, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়– এই চারটি প্রতিষ্ঠানে আরটিপিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এছাড়া, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট নগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং চসিকের মেমন-২ হাসপাতালে করানো যাবে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং চসিকের মেমন-২ হাসপাতালকে করোনার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে চলতি মাসে ৪৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সাত জন জেলার বাসিন্দা। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ২২ জন, মহিলা ২১ জন ও শিশু একজন রয়েছে।

/এমএস/
সম্পর্কিত
করোনার চেয়ে বার্ড ফ্লু ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের
করোনা পরবর্তীকালে সর্বনিম্ন জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরে, ৩.৬৯ শতাংশ
খুলনায় করোনায় যুবকের মৃত্যু
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী