শাহজাহান চৌধুরীকে ক্ষমা চাইতে বললেন বিএনপি নেতারা, জামায়াত বলছে বক্তব্যটি ব্যক্তিগত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:১২আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ২০:৫৩

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর দেওয়া ‌‘বিতর্কিত’ বক্তব্য নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সেই বক্তব্যের জন্য তাকে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‌‘যে বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা, সেটি তার ব্যক্তিগত। এটি দলের কোনও বক্তব্য নয়।’ 

শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে মূলত ফ্যাসিস্টদেরও সহযোগিতা করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্টদেরও উসকানি দেওয়া হচ্ছে।’

জামায়াত নেতার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য ফ্যাসিস্টদের মতো। নির্বাচনে ভোট দেবে জনগণ। অথচ তারা প্রশাসনকে নিয়ে ভোট করতে চাইছে। প্রশাসন কেন কোনও রাজনৈতিক নেতার পেছনে হাঁটবে। কোনও রাজনৈতিক নেতার পেছনে হাঁটা তো প্রশাসনের কাজ নয়। এমন বক্তব্যের জন্য অবশ্যই শাহজাহান চৌধুরীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীকেও ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

এমন বক্তব্যের জন্য শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য আমি শুনেছি। এই বক্তব্য ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি। এমন বক্তব্যের কারণে প্রশাসন চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে তারা আরও বেশি উগ্র হয়ে উঠবে। আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে। ভোট সুষ্ঠু হবে না। এজন্য তাকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি আমি।’

বক্তব্যটি শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত, দলের নয় 

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে প্রশাসন পূর্ণ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। এখানে দলীয় কোনও হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। কারণ এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। শাহজাহান চৌধুরী যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো তার ব্যক্তিগত। এগুলো দলের বক্তব্য নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলীয় সম্মেলনে আমি যে বক্তব্য রেখেছি, তার মূল কথা হলো প্রশাসন দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে কাজ করবে। বর্তমান সরকারের অধীনে দেশের স্বার্থে পুলিশ ও প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। আমি সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যারা আমার খণ্ডিত বক্তব্য ফেসবুকে প্রচার করছেন তারা মূলত ফ্যাসিস্টদেরই সহযোগিতা করছেন এবং উসকানি দিচ্ছেন। আমার পুরো বক্তব্য শুনলে যে কেউ বুঝতে পারবেন আমি পুলিশ, প্রশাসনকে দেশপ্রেমিক হয়ে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করার জন্যই কথাগুলো বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন ভারত সবসময় আমাদের দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য এমন কোনও কাজ নেই, যা তারা করেনি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বস্তা বস্তা টাকা ও অস্ত্র ঢুকবে বলেছি। ফলে আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে জনগণের প্রশাসন হওয়া দরকার। জনগণের স্বার্থেই কাজ করা দরকার। “প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে” বলতে বোঝাতে চেয়েছি দেশের সমস্ত জনগণের কথা। এখানে জামায়াতের কথা শুনতে বলা হয়নি।’

এর আগে শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন হলে জামায়াত আয়োজিত ‘নির্বাচনি দায়িত্বশীল সম্মেলনে’ বিশেষ অতিথি হিসেবে শাহজাহান চৌধুরীর দেওয়া একটি বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বস্তা বস্তা টাকা ও অস্ত্র ঢুকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সম্মেলনে শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়, যার যার নির্বাচনি এলাকায় প্রশাসনের যারা আছে, তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেফতার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে। যার যার নির্বাচনি এলাকায় প্রাইমারি স্কুলের মাস্টারকে দাঁড়িপাল্লার কথা বলতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক, নুরুল আমিন (নগরের সেক্রেটারি) ভাইয়ের ফটিকছড়িতে দাঁড়িপাল্লার কথা বলতে হবে। পুলিশকে আপনার পেছনে পেছনে হাঁটতে হবে। ওসি সাহেব আপনার কী প্রোগ্রাম, তা সকালবেলায় জেনে নেবেন আর আপনাকে প্রটোকল দেবেন।’

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে শাহজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না তিনি।

/এএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
জামায়াত বেশি বাড়াবাড়ি করলে ইনু-মেননের মতো অবস্থা হবে: নুরুল আমিন
নেপাল দূতাবাসের শোকবইয়ে জামায়াত সেক্রেটারির সই
ট্রাম্প চেয়েছেন বলে আমরা ১৪টি বোয়িং কিনছি, এয়ারবাসও কিনবো: বিমানমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
জামায়াত বেশি বাড়াবাড়ি করলে ইনু-মেননের মতো অবস্থা হবে: নুরুল আমিন
জামায়াত বেশি বাড়াবাড়ি করলে ইনু-মেননের মতো অবস্থা হবে: নুরুল আমিন
সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্তে পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান টিআইবির
সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্তে পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান টিআইবির
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি
নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন
নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন
এক জেলার ২ এসিল্যান্ডসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ
এক জেলার ২ এসিল্যান্ডসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৩ মিনিটে ৮১ বার ‘স্যার’ ডাকলেন সিভিল সার্জন
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৩ মিনিটে ৮১ বার ‘স্যার’ ডাকলেন সিভিল সার্জন
আজ স্বর্ণের দাম কত
আজ স্বর্ণের দাম কত