মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বাংলাদেশ কিনছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি আরও কিছু বিমান লিজ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে তৈরি এয়ারবাসও কেনা হবে।’
সোমবার (৩১ আগস্ট) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রাম্প একটা জিনিস চেয়েছেন—‘আমাদের বোয়িংগুলো ইউজ করেন।’ আমরা করছি, আমরা কিনছি। ১৪টি বোয়িং কিনছি, আরও আমরা লিজ নেবো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এদিকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং জার্মানি থেকে যে এয়ারবাস তৈরি হয়, সেখান থেকেও কিনছি, কিনবো। আমরা সবকিছুই বাড়াবো, ভালো করবো।”
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ট্রাম্পের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়টি রবিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তিনি লিখেছেন, “চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়ে অনেক বেশি।”
নানা আলোচনার মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে উড়োজাহাজগুলো বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী।
দেশের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাট বলেন, “আমরা দেশটাকে উন্নত করবো; যার যার যে দায়িত্ব রয়েছে—আমার যে দায়িত্ব রয়েছে, আমি পালন করবো। এখানে কিন্তু সকলেই, যার যার দায়িত্ব আছে—শুধু দায়িত্ববান হলেই হলো, আর কিছু লাগে না।”
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এখন। বিগত সরকারের আমলে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যেভাবে কাজ চলেছে, এই বর্ণনা করতে গেলে অনেক সময় লাগবে বা আপনারা সবাই জানেন। অনেকেই হয়তো ইচ্ছা না থাকলেও যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা, তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে হয়েছে। যে কাজগুলো জনবিরোধী কাজ ছিল।”
মন্ত্রী বলেন, “এখন আমরা করতে চাই জনবান্ধব কাজ। জনবান্ধব কাজ করতে হলে আপনাদের সকলকে একটু স্যাক্রিফাইস করতে হবে। আমাদের কাজগুলো যদি আমরা না করি, তাহলে আমাদের নিজেদের কাছে লজ্জাবোধ করবো—এরকম ধরনের একটা মানসিকতা যাতে সৃষ্টি হয়, তাহলেই আপনি দেখবেন যে আমাদের কাজ করার প্রবণতা বেড়ে যাবে এবং আমরা স্বেচ্ছায় যার যার যে কাজের পরিধি রয়েছে, সে কাজগুলো করতে পারবো।”
ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং নেত্রকোনা; আমি মনে করি সব এমপিকে সঙ্গে নিয়ে, আমাদের প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে নিয়ে, কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আপনাদের যা যা প্রয়োজন রয়েছে—এই জেলাগুলোর উন্নয়ন করার জন্য আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।”
তিনি বলেন, “কতটুকু পারবো আমি জানি না, বাট আমি ১০০ শতাংশ চেষ্টা আপনাদের জন্য দেবো—এই এলাকাগুলোর উন্নয়নের জন্য এবং জনগণের এই যে ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা, এগুলো পূরণের জন্য আপনাদের মাধ্যমে।”
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। তা না হলে জনগণ তাদের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বিদায় যদি এরকম হয়ে থাকে এবং তার থেকে যদি আমরা রাজনীতিবিদেরা শিক্ষা না নিই, তাহলে এই বাংলাদেশ আর কোনোদিন শিক্ষিত হবে না। শিক্ষা নিতে হবে।”
রশিদুজ্জামান মিল্লাট বলেন, “জোরপূর্বক কোনও কিছু করা এবং স্বৈরাচারতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে আমাদের কর্মকর্তাদের হুকুম দেওয়া এবং তাদের কাজে বাধ্য করা, অকাজে বাধ্য করা—এই কাজগুলো যে ছিল, এই কাজগুলো আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খণ্ডন করতে চান। এটার অপোজিট ওয়ার্ক করতে চান। সেটা কাদের নিয়ে? আপনাদের নিয়ে।”
এর আগে সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ থেকে বিদায় নিয়েছেন, তা থেকে শিক্ষা না নিলে সবার পরিণতি খারাপ হতে পারে। বিগত সময়ে যা ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।









