লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিএনপি এখন আর নেই, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিও আর নেই, এখন যে বিএনপি আছে, সটি চাঁদাবাজদের ও দুর্নীতিবাজদের বিএনপি। এ কারণেই আমি ২০০৬ সালে বিএনপি ত্যাগ করেছি।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এলডিপির সভাপতি বলেন, ‘আজকে হাসিনা এবং তার দোসর কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছে। এই টাকা যদি থাকতো বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম ধনী দেশ হিসেবে পরিণত হতো। দেশের মানুষের কোনও সমস্যা নেই। এ রকম জায়গা পৃথবীতে নেই। একটা বীজ পড়ে থাকলে সেটা থেকে চারা উঠে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে রাজনীতিবিদরা হলো মহাদুর্নীতিবাজ। শহীদ জিয়ার বিএনপি এখন আর নেই। বেগম জিয়ার বিএনপি এখন আর নেই। এখন ভাড়াটিয়াদের বিএনপি, দুর্নীতিবাজদের বিএনপি, চাঁদাবাজদের বিএনপি। ওই কারণে আমি বিএনপি ত্যাগ করেছিলাম ২০০৬ সালে। যদিও পরবর্তীতে বেগম জিয়ার সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু দেখলাম বেগম জিয়া যখন অসুস্থ তারা আবার চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়ে যায়। এই চাঁদাবাজদের সঙ্গে থেকে আমি দোজখে যাওয়ার জন্য রাজি নই।’
তিনি বলেন, ‘এবার জাতি যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয় স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। আমরা যুদ্ধ করেছিলাম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য। এখন একটা দল বিদেশিদের দালালি করছে। তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করছে। তাদের ইচ্ছের বাইরে যেতে পারবে না। আমি বলেছিলাম এরশাদকে একটা চেইন লাগিয়েছিল, এরশাদের ভাই কাদেরকে দুইটা চেইন লাগিয়েছিল ভারত। এখন যারা আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছে তাদের তিনটা চেইন লাগিয়েছে। সুতরাং ভারতের বাইরে, ‘র’ এর বাইরে তারা যেতে পারবে না। আমরা চাই না এদেশ ভারত শাসন করুক। সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে সিদ্ধান্ত হবে ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ক্ষমতায় আনার জন্য ভোট দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মার্কা নিয়ে আমরা যারা প্রার্থী আছি, আমি জামায়াত হইনি, জামায়াতের লোকেরাও এলডিপি হননি। আমরা স্ব স্ব পরিচয় নিয়ে এক জায়গায় একত্রিত হয়েছি। কেন একত্রিত হয়েছি? হাসিনার দোসরদের পরাজিত করার জন্য। হাসিনা চলে গেছে। আপনারা শুনেছেন বিএনপির মহাসচিব কী বলেছেন। দুইটা গুরুত্বপূর্ণ কথা। একটা হলো তিনি বলেছেন- জুলাই বিপ্লবে তাদের কোনও অংশগ্রহণ ছিল না। তাদের কোনও ছাত্রদল-যুবদলের ছেলে মৃত্যুবরণ করেনি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের যে বা যারা আছে তার এলাকায় বা বাংলাদেশে তাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হবে না। তাহলে আওয়ামী লীগের জায়গায় এখন কে কাজ করছে? বিএনপি কাজ করছে। তাহলে আপনাদের বুঝতে হবে এদেশ তারা বিক্রি করার জন্য আবার পাঁয়তারা করছে। আপনারা যদি নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারেন আপনাদের কেউ সাহায্য করতে পারবে না। আমি আবার বলে যাই সমগ্র জাতিকে আমাদের ১১ দলীয় জোটের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হন। কারণ আমরা সুশাসন চাই, ন্যায় বিচার চাই, দুর্নীতি মুক্ত সমাজ চাই, চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ চাই এবং যারা বেইমান-মুনাফেক, দেশদ্রোহী তাদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে চাই।’








