কক্সবাজারের উখিয়ায় ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ (৩০) উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের এক প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত ৩টার দিকে সেহরি খেতে ওঠেন গৃহবধূ। এ সময় মুখোশধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে মারধরও করা হয়। আক্রান্ত গৃহবধূর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ সময় প্রতিবেশীদের সামনেই মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
গৃহবধূর ভাশুর বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমার ভাইয়ের স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।’
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ‘নির্জন এলাকায় ওই ঘরে ভোররাতে সেহরি খেতে উঠেছিলেন গৃহবধূ। দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে একাধিক জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
ওসি নুর আহমদ বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গৃহবধূর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের মামলা রয়েছে। বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড কিনা, তার অনুসন্ধান চলছে। ঘটনাটি নিছক ডাকাতির নাকি ধর্ষণের কারণে সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ অব্যাহত রেখেছে। জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হলে পুলিশ গ্রেফতারের অভিযান চালাবে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’









