কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ জন যাত্রী নিহতের ঘটনায় করা মামলার আরেক আসামি অস্থায়ী গেটম্যান কাউসারকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি পদুয়ার বাজার এলাকায় রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান হেলাল উদ্দীনকে ব্রাহ্মণপাড়ার শংকুচাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব।
আজ সন্ধ্যায় লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীমউদ্দিন জানান, ‘মামলায় কাউসারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মেহেদী হাসান এখনও পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতার কাউসার নিজেও একজন অস্থায়ী গেটম্যান।’
ওসি আরও বলেন, ‘গেটম্যান আগের স্টেশন থেকে সিগন্যাল পেয়েছে কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার হেলালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ জন যাত্রী নিহতের ঘটনায় সোমবার দুপুরে শেফালী আক্তার (৫৮) নামের এক নারী কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী মো. হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতের ওই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই দুজনকে বরখাস্ত করেছিল রেলওয়ে বিভাগ।
ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন। এতে প্রাণ হারান সাত জন পুরুষ, দুই নারী, তিন শিশুসহ ১২ জন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অন্তত ১০ জন। হতাহতরা ছিলেন বাসের যাত্রী।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানের দায়িত্বহীনতায় এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তিনটি তদন্ত কমিটি। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে গেটম্যান হিসেবে দুজনকে বরখাস্ত করা হলেও মামলায় একজনকে অস্থায়ী গেটম্যান এবং আরেকজনকে ওয়েম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।








