নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে হেফজ পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১৪) যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে মানববন্ধন করিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে ভাঙচুর ও তাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে চরজব্বর থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর বাবা। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এরপর ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নে ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে মানববন্ধন করিয়ে ছাত্রীর বাড়িতে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়। হামলা-মারধরের পর অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেয় পুলিশ।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে স্থানীয় দারুল আকরাম ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে দেখতে যান তার দাদি। তখন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের দাদিকে জানান, তার নাতনিকে কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে ঝাড়ফুঁক দিতে হবে। সেজন্য দাদিকে সরিষার তেল আনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে ওই ছাত্রীকে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যান আবুল খায়ের। এ সময় যৌন হয়রানি করেন। দাদি এসে নাতনির কান্নার শব্দ শুনে ওই কক্ষে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেন শিক্ষক।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কিছু লোকজন সালিশ করে সমঝোতার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ দেন। এ নিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন স্থানীয় মাতব্বর ও সালিশদাররা। আড়াই মাসেও কোনও সালিশ ও সমঝোতা না হওয়ায় গত ১৬ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা চরজব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হন শিক্ষক আবুল খায়ের। ওই দিনই মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে মানববন্ধন করিয়ে ছাত্রীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও তাকে মারধর করান। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। বর্তমানে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
শনিবার বিকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের ঝাড়ফুঁকের কথা বলে যৌন হয়রানি করেন। বিচার চাওয়ায় আজ না হয় কাল বলে লোকজনকে দিয়ে সময়ক্ষেপণ করাতে থাকেন প্রধান শিক্ষক। শেষে থানায় অভিযোগ দেওয়ায় কিছু লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করিয়ে আমার বাড়িতে হামলা ও মেয়েকে মারধর করিয়েছেন ওই শিক্ষক। এ নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চরজব্বর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাপন চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সেদিনই ঘটনার তদন্তে গিয়েছিলাম। অভিযুক্ত পলাতক। তবে এরপর ওই ছাত্রীর বাড়িতে কারা হামলা ও মারধর করেছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানি না। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো।’
এ ব্যাপারে জানতে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









