ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতেই অদিতাকে হত্যা, গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৬ আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৯

নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির সাবেক ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি অদিতার সাবেক কোচিং শিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। ভুক্তভোগীকে ধর্ষণচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েই বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই তাকে হত্যা করা হয় বলে আদালতের রায়ে জানানো হয়।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম সিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সেলিম শাহী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে স্কুলছাত্রী অদিতার গলা ও হাত, পায়ের রগ কাটা অবস্থায় রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার দিন রাতে অদিতার সাবেক কোচিং শিক্ষক স্থানীয় আব্দুর রহিম রনিকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় রনি। এ ছাড়া গ্রেফতারের সময় রনির মাথা, ঘাড়, গলাসহ শরীরের একাধিক স্থানে অদিতার নখের আঁচড় দেখা যায়। এমনকি ঘটনার সময় রনির পরা জামায় রক্তের দাগ পায় পুলিশ। 
পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বাদীপক্ষের ৪১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া আসামিপক্ষের পাঁচ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক।

তাসনিয়া হোসেন অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুরের প্রয়াত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। রিয়াজ হোসেন সরকার ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় মারা যান। লক্ষ্মীনারায়ণপুরের জাহান মঞ্জিলে দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন রাজিয়া সুলতানা।

ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলে যায় অদিতা। ১২টার দিকে প্রাইভেট শেষে সে একাই বাসায় ছিল। মা সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে ঘরের মূল দরজায় তালা দেখতে পান। তালা খুলে ভেতরে ঢুকে সামনের কক্ষের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পেলেও অদিতাকে দেখেননি রাজিয়া সুলতানা। কিছুক্ষণ পর অন্য রুম খুলে ভেতরে ঢুকে মেয়ের বিছানায় তার অর্ধনগ্ন, গলা ও দুই হাতের রগ কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। 

রাজিয়া সুলতানা জানান, রনির কোচিং থেকে ঘটনার কিছু দিন আগে পড়া বন্ধ করে দিয়ে অন্য স্থানে প্রাইভেট শুরু করে অদিতা। এতে ক্ষিপ্ত হয় রনি। বিষয়টি তাদের বুঝতে না দিয়ে অদিতাদের বাসায় বিভিন্ন সময় আসা-যাওয়া করতো রনি। 

ঘটনার দিন মা ঘরে না থাকার সুযোগে দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে অদিতাকে ধর্ষণচেষ্টা ও পরে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ছোরা দিয়ে হাত ও গলা কেটে হত্যা করে রনি। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ঘরের আলমারিতে থাকা মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে।

এ ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে রনিসহ চার জনকে গ্রেফতার করে। মামলাটি তদন্তের পর অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রনি জানায়, অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

/এফআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মায়ের লাশের পাশে বঁটি হাতে মেয়ে, জানালা দিয়ে দেখে থানায় জানালেন প্রতিবেশী
ট্রাকচালক হোসেন হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু
মাদকাসক্ত ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু
সর্বশেষ খবর
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
অতীতে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, টাকা পরিশোধ করলেন প্রবাসী 
অতীতে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, টাকা পরিশোধ করলেন প্রবাসী 
টিভিতে আজকের খেলা (২৭ অক্টোবর, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (২৭ অক্টোবর, ২০২৬)
২৫ বছর পর ব্যালন ডি’অর জয় ইংলিশ তারকার, মেসি কত নম্বরে? 
২৫ বছর পর ব্যালন ডি’অর জয় ইংলিশ তারকার, মেসি কত নম্বরে? 
সর্বাধিক পঠিত
বন্ধ হয়ে গেলো ঢাকার দুই দশক পুরোনো শপিং মল
বন্ধ হয়ে গেলো ঢাকার দুই দশক পুরোনো শপিং মল
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত, ১৬ ডিগ্রিতে নামলো তাপমাত্রা
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত, ১৬ ডিগ্রিতে নামলো তাপমাত্রা
এক বর্গকিলোমিটারের কম জায়গায় ৩০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চাপে আবাসিক জীবন
এক বর্গকিলোমিটারের কম জায়গায় ৩০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চাপে আবাসিক জীবন